পালংশাকের পাতা দিয়ে হার্টের টিস্যু!
পালংশাকের পাতা দিয়ে হার্টের টিস্যু!
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৪-০১ ১৩:৩৩:০১
প্রিন্টঅ-অ+


গবেষকরা সফলভাবে পালংশাকের পাতা দিয়ে রক্ত পরিবহনে সক্ষম এমন শিরা সহ হার্টের টিস্যু বানাতে সক্ষম হয়েছেন।

রক্ত পরিবহন নেটওয়ার্ক তৈরি করা বেশ কঠিন। কারণ রক্ত মাত্র ৫ থেকে ১০ মাইক্রোমিটার কৈশিক নলের ন্যায় রক্তনালিতে প্রবাহিত হয়। সেটা গবেষণাগারে তৈরি একটা চ্যালেঞ্জ। ধমনী সমূহ অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে। যেটা গবেষণাগারে তৈরি নালিকেও করতে হবে, তাই বিষয়টা বেশ জটিল।

তবে ওরসেসটার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে একটি দল সফলভাবে একটি পালংশাকের পাতা ব্যবহার করে ক্ষুদ্র নেটওয়ার্কের একটি জীবন্ত হার্ট টিস্যু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা তাদের প্রকাশিত জার্নাল পেপারে বলেন, যদিও প্রাণী এবং উদ্ভিদের দেহে পরিবাহিত তরল কিংবা রাসায়নিক বস্তুগুলোর মধ্যে মৌলিক কোনো মিল নেই, তবুও তাদের ভাস্কুলার নেটওয়ার্ক কাঠামোতে যথেষ্ট মিল আছে। গবেষকেরা প্রথমেই নতুন ধমনিতন্ত্র গঠনের পরিবর্তে পালংশাকের পাতা থেকে সবুজ অংশ সরিয়ে নেন এবং রেখে দেন শুধু সেলুলোজে নির্মিত গঠনটিকে।

এই কাজের জন্য সেলুলোজকে বেছে নেয়ার কারণ সম্পর্কে গবেষকরা বলেন, এটা খুব সহজলভ্য এবং আশেপাশে প্রচুর হয় এবং হার্ট টিস্যুর সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে। এই গবেষণার জন্য তারা স্থানীয় বাজার থেকেই পালংশাক সংগ্রহ করেন।

পালংশাকের মিহি ভাস্কুলার গঠন পেতে দলটি পাতাকে একটি ডিটারজেন্ট দ্রবণে ডুবিয়ে রাখেন। এই প্রক্রিয়াটির নাম ডিসেলুলারেশন।

গবেষক দলের প্রধান জসুয়া গেরস্লেক জানান, তিনি এর আগেও হার্টের টিস্যুর ডিসেলুলারেশন করেছেন আর পালংশাকের পাতার ডিসেলুলারেশন করার পর তার সেই কথাই মনে পরে গিয়েছিল। তবে নিশ্চিত ছিলেন না, এটা কাজ করবে কিনা। কিন্তু দেখা গেল যে এটা কাজ করছে।

দলটি অন্যান্য উদ্ভিদের পাতায়ও একই কাজ করেন যেমন: চীনাবাদাম এর পাতা। কিন্তু শেষমেশ তারা পালংশাকের পাতাই বেছে নেন কেননা তাতে প্রচুর নালি আছে যা কিনা হার্টের টিস্যুর ও আছে।

গবেষকরা হার্টের পেশী কোষের সঙ্গে সালাদ পাতার ভাস্কুলার গঠন যুক্ত করেন এবং অধীর আগ্রহে পর্যবেক্ষণ করেন। কিছু দিন পর তারা অবাক হন এটা দেখে যে, মানব দেহে যেমন ভাবে হার্ট এর পেশী কাজ করে ঠিক তেমন ভাবেই এটা পাতার সঙ্গেও করছে।

গেরস্লেক বলেন, এখানে আমরা পাতলা এক টুকরা টিস্যুর মধ্যে এমন গবেষণা চালিয়েছি। এর পরে একাধিক টিস্যুর মধ্যে আমরা এটা করব এবং আমরা আশাবাদী যে আমরা এখান থেকে কার্ডিয়াক টিস্যু তৈরি করতে পারব।

এই ফলাফল শুধু একটা ধারণার প্রমাণ মাত্র। গবেষকদল কাজ করে যাচ্ছেন যেন এটাকে মানব টিস্যুর সঙ্গে একীভূত করা যায়। তারা জানান, আমরা এখনো নিশ্চিত নই কিভাবে একটি উদ্ভিদের ভাস্কুলার সিস্টেমের সঙ্গে মানুষের ভাস্কুলার সিস্টেমের সমন্বয় করব। কিন্তু আমরা আশাবাদী।

পালংশাকের ব্যবহার মানুষের রক্তনালী নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য এটা একমাত্র চেষ্টা নয়। বিজ্ঞানীরা থ্রিডি প্রিন্টিং টেকনোলোজি ব্যবহার করে কিভাবে এই নেটওয়ার্ক বানানো যায় এমন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সময়ই বলে দেবে কোন প্রক্রিয়া আসলেই সফল হবে- ল্যাবে নাকি ল্যাবের বাইরে। তবে এই চেষ্টাটিও যথেষ্ট আশার সঞ্চার করেছে এই গবেষণায়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর