১২টি সরকারি পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে
১২টি সরকারি পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে
২০১৭-০৩-২৩ ১২:২৫:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে সোমবার তিনটি পাহাড় থেকে শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। তারপরও পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি বন্ধ হয়নি। কক্সবাজার শহরতলির ১২টি সরকারি পাহাড় কেটে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ওই ১২টি পাহাড়ে গত ১২ বছরে তৈরি হয়েছে অন্তত ১০ হাজার অবৈধ ঘরবাড়ি। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ঝুপড়িঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ২০ হাজারের মতো মানুষ।

মঙ্গলবার শহরের লাইট হাউস এলাকার ফাতেরঘোনার পাহাড়ে (নুরু সওদাগরের ঘোনায়) গিয়ে দেখা যায়, নয়টি স্থানে পাহাড় কাটা চলছে। কয়েকটি পাহাড়ে নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় দোকানদার মো. হাচু বলেন, মাসখানেক ধরে পাহাড় কাটছেন জহুরা বেগমসহ ১০ জন। পাহাড় কাটা জায়গায় একটি বহুতল ভবন তৈরি করছেন হাফেজ আহমদ নামের এক ব্যক্তি। ইতিমধ্যে ভবনটির একতলা উঠে গেছে।
জহুরা বেগম বলেন, চার মাস আগে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি তিন গন্ডা (ছয় শতক) পাহাড়ি জমির দখলস্বত্ব কিনেছেন। এখন পাহাড় কেটে সেখানে বাড়ি তৈরি হচ্ছে।
পাহাড় কেটে ভবন তৈরি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাফেজ আহমদ বলেন, ‘পাহাড় কেটে শত শত মানুষ ঘরবাড়ি বানিয়েছে, আমি করলে অসুবিধা কী?’ তিনি বলেন, ভবন তৈরির জন্য তিনি কউক বা পৌরসভার কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেননি।

ফাতেরঘোনা সমাজ কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ‘এটি পুরোপুরি সরকারি পাহাড়। যে যার মতো পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ করলেও কেউ বাধা দিচ্ছে না।’
শহরের আদর্শগ্রাম পাহাড় কেটেও তৈরি হয়েছে ৪০টির বেশি ঘরবাড়ি। এর মধ্যে তিনটি তৈরি করা হয়েছে কয়েক দিন আগে। একটি ঘরের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালের বৃষ্টিতে পাহাড় কাটা শুরু হয়। বিকেলে তৈরি করা হয় টিনের একটি ঘর। বর্ষায় পাহাড় কাটতে সুবিধা। কারণ বৃষ্টির পানিতে পাহাড় ধসে পড়ে এবং মাটি বৃষ্টির পানির সঙ্গে দ্রুত নিচে নেমে যায়। এতে শ্রমিকের খরচ বাঁচে।

শহরের বাইপাস সড়কের কলাতলী অংশের দুপাশে পাহাড় কেটে তৈরি হয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। এর আশপাশের পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরির হিড়িক পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের পাহাড়তলী, লাইট হাউস, রাডার স্টেশন পাহাড়, লারপাড়া, বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার পাহাড় কেটেও ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, শহরতলির ছোট-বড় ১২টি পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে পাহাড় কাটায় মাটি নেমে এসে শহরের নালা ভরাট হচ্ছে। সড়কের ওপর জমছে বালুর স্তর। এসব পরিষ্কার করতে পৌরসভাকে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হয়।

কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে পাহাড় কেটে বসতবাড়ি তৈরির হিড়িক পড়ে। এ সময় বিভিন্ন পাহাড়ে ফাটল দেখা দেয়। বৃষ্টির পানিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটে। গত পাঁচ বছরে শহরে পাহাড় ধসে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়। তারপরও পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্ষার আগে পাহাড়ের অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে, যাতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি না হয়।

কউকের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, পাহাড় কেটে তৈরি সব স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পাহাড় থেকে দুই শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। শতাধিক দখলদারকে পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনার সরিয়ে নিতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন থেকে কউকের অনুমোদন ছাড়া শহরে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফিচার এর অারো খবর