ঢাকায় ১৪ দেশের পুলিশপ্রধানদের সম্মেলন শুরু রোববার
ঢাকায় ১৪ দেশের পুলিশপ্রধানদের সম্মেলন শুরু রোববার
২০১৭-০৩-১০ ০০:২০:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসসসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে আগামী রোববার ঢাকায় শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী ১৪টি দেশের পুলিশপ্রধানদের তিন দিনের সম্মেলন।

ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে ইন্টারপোলের আইজিসিআই, এফবিআই, আসিয়ানপোল ও আইসিআইটিএপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। এর মধ্যে একটি সেশনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হবে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, ১৪টি কর্ম-অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য তুলে ধরবেন। জঙ্গিবাদ দমন, মানবপাচার, অর্থনৈতিক অপরাধ, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, মাদক পাচার রোধ, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান ঠেকানো, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে। সম্মেলন শেষে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমনসহ আন্তঃদেশীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করে ‘যৌথ ঘোষণা’ সই হবে।

সম্মেলনে অংশ নেবে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলংকা ও ভিয়েতনাম।

রোববার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধান অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। এতে আফগানিস্তানের নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপমন্ত্রী আবদুল রহমান, মালয়েশিয়ার আইজিপি খালিদ আবু বকর, মিয়ানমার পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো সু উইন, দক্ষিণ কোরিয়ার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট জু মিন লি, শ্রীলংকার আইজিপি পুজিথ সন্ধি বন্দরা জয়সুন্দর, ইন্টারপোলের মহাসচিব জারগেন স্টক, ফেসবুকের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি ম্যানেজার বিক্রম লাংয়ে, আসিয়ানপোলের নির্বাহী পরিচালক ইয়োহানেস আগুস মুলিয়োনো, আইজিসিআইর প্রটোকল অ্যান্ড কনফারেন্স বিভাগের প্রধান সিন লি চুয়া, আইসিআইটিএপির পরিচালক গ্রে বারসহ ৫৮ বিদেশি সম্মেলনে যোগ দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি আশা করেন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে অভিজ্ঞতা ও তথ্যবিনিময়ের পাশাপাশি একটি সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের পুলিশপ্রধানদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হবে। এ অঞ্চলের আইন-শৃগ্ধখলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পেশাগত ও কৌশলগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দ্বিপক্ষীয় আঞ্চলিক সহযোগিতাও নিশ্চিত করা যাবে।

সম্মেলনে পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিত না থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইজিপি বলেন, ‘পাকিস্তানকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে সব সময় যেসব দেশের যোগাযোগ হয়, তাদের নিয়েই এ সম্মেলন।’

আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, বিশ্বব্যাপী পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এখনও তার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত নয়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে প্রতিবেশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়, সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত প্রয়োজন।

পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সম্মেলনের একটি সেশনে জঙ্গিবাদ দমন বিষয়ে ফেসবুক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করবে পুলিশ। এতে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। যেখানে ৭২০ জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের ৭২ ভাগই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর