আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা
আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০৩-০৭ ০২:১১:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+


সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০১৭’।

৫ মার্চ রোববার, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বিচারক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বিডিওএসএন এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘দেশের হাই স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য টানা তৃতীয় বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে, ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রামিং কনটেস্ট। এবার ১৬টি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ৩টি উপজেলায়ও এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ে উদ্বুদ্ধ করা।’

তিনি জানান, এ বছর হাইস্কুলে প্রোগ্রামিং এর পাশাপাশি মেয়েদের জন্য ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এবং শিশুদের জন্য জাতীয় শিশু কোডিং উৎসবের আয়োজন থাকছে। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য, স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ছোটবেলা থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের বিভিন্ন বিষয়, প্রয়োগ ও দক্ষতা বৃদ্ধি সম্পর্কে সচেতনতা ও শক্ত ভিত্তি তৈরি করা।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ বছর আরো বড় পরিসরে আয়োজনের উদ্যেগের কারণ হচ্ছে, বিগত বছরের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালে ৮টি এবং ২০১৬ সালে ১৬টি আঞ্চলিক পর্যায়ের কনটেস্টের পর জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। বিগত দু’বার আয়োজন করতে গিয়ে আমরা উপলব্দি করেছি, শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার জলিলগঞ্জ গ্রামের রোকাইয়া আখতার রাখীর মতো অনেক অদম্য মেধাবীদের মাধ্যমে। রাখীর কোনো ল্যাপটপ ছিল না বলে সে তার মায়ের মোবাইল ফোনে প্রোগ্রামিং শিখেছে এবং যশোরের আয়োজনে সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।’

‘উদাহরণ হিসেবে আরও বলা যায়, ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন। বিজয়ীদের মধ্যে রাজশাহীর রুবাব রিদওয়ান এই ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা থেকেই প্রোগ্রামিং শেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল।’

‘জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৭’ আয়োজনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে সহায়তা করছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। পাশাপাশি পরামর্শ-উপদেষ্ঠা হিসেবে কাজ করছেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

প্রতিযোগিতার বিচার কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দেশে তৈরি আন্তর্জাতিক জাজ ইঞ্জিন কোডমার্শাল (www.codemarshal.org)। প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন ও যাবতীয় তথ্য জানা যাবে www.nhspc.org ওয়েবসাইট থেকে। সক্রিয় আছে প্রতিযোগিতার ফেসবুক পেজ (www.facebook.com/nhspcbd) এবং ফেসবুক গ্রুপ https://www.facebook.com/groups/NHSPC।

আগামী ৯ মার্চ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যশোর অঞ্চলের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই আয়োজনের পর্দা ওঠবে এবং আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৭ এর পর্দা নামবে।

এক নজরে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৭

মোট প্রতিযোগিতা : ১৯টি

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা : ১৬টি

উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা: ৩টি

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার অঞ্চলসমূহ : রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্রগাম, বরিশাল, চট্রগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, পাবনা, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, যশোর ও ময়মনসিংহ।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ভেন্যু সমূহ: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কুমিল্লা সেনানিবাস), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

উপজেলাসমূহ : আনোয়ারা-চট্রগ্রাম, সিংড়া-নাটোর, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর।

প্রথম প্রতিযোগিতা: ৯ মার্চ, ২০১৭।

জাতীয় প্রতিযোগিতা: ৭ এপ্রিল, ২০১৭। স্থান- কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, ঢাকা।

এবারের আয়োজনে যা যা থাকছে:

* প্রচারণামূলক অ্যাকটিভেশন, মেন্টরস ট্রেনিং, অনলাইন মেন্টরশিপ ও ফোরাম।

* ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৩টি উপজেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা।

* ৪টি অনলাইন প্র্যাকটিস কনটেস্ট।

* ২০০১টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে অনলাইন কনটেস্ট।

* জাতীয় প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা।

* জাতীয় প্রোগ্রামিং ক্যাম্প, আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড (আইওআই) ক্যাম্প।

* বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড।

* আইওআই ক্যাম্প থেকে নির্বাচিত ৪ জন এ বছর ইরানের রাজধানী তেহরান এ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড এ অংশগ্রহণ করবে।

* মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০১৭ এবং শিশুদের জন্য জাতীয় শিশু কোডিং উৎসব ২০১৭।

কুইজ প্রতিযোগিতার ৩টি ক্যাটাগরি : জুনিয়র (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী), সেকেন্ডারি (নবম-এসএসসি পরীক্ষার্থী) এবং হায়ার সেকেন্ডারি (একাদশ-এইচএসসি পরিক্ষার্থী, পলিটেকনিকের ৪র্থ সেমিস্টার পর্যন্ত)।

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার ২টি ক্যাটাগরি : জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা), সিনিয়র (দশম থেকে দ্বাদশ ও সমমানের শিক্ষার্থী পলিটেকনিকের ৪র্থ সেমিস্টার পর্যন্ত)।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর