ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে টেকসই রাস্তা
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে টেকসই রাস্তা
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০২-২৮ ২৩:৪৮:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


প্রতিদিন আমরা নানাভাবে প্লাস্টিকের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন যেসব পণ্য কিনি তার সঙ্গে ফ্রি অনেক প্লাস্টিকের পণ্য পেয়ে থাকি। এভাবে কারণে অকারণে বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার।

এমনকি আজকাল চায়ের দোকানেও চা পরিবেশন করা হচ্ছে প্লাস্টিকের ছোট কাপে। আর কফির কথা বলার প্রয়োজন নেই, কেননা সেটা বহু আগে থেকেই প্লাস্টিকের কাপে দেয়ার প্রচলন ছিল। তার ওপর সবচেয়ে খারাপ যে বিষয়টা হয়েছে, এক সময় এদেশে কোমল পানীয় বলতে কাঁচের বোতলের পানীয়কেই বুঝতাম। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও হানা দিয়েছে প্লাস্টিক। কাঁচের বোতল কদাচিৎ দেখা গেলেও ছেয়ে গেছে প্লাস্টিকে। ফলে প্লাস্টিকের ব্যবহার নেই কোথায়?

আজকাল ঝাড়ু থেকে শুরু করে পিঠ চুলকানোর জন্যেও ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিক। তাই অবধারিতভাবেই তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য, যা পরিবেশের জন্যে বেশ ক্ষতিকর।

আর বহুল ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ব্যাগ, যেটা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে সেটা যে কি পরিমানে মাটি আর নদীর পানিতে আছে তার কোনো হিসাব নেই। এভাবে প্রতিদিন বাড়ছে প্লাস্টিক বর্জ্য। যেটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তো বটেই সমাজের জন্যেও ক্ষতিকর। কেননা এইসব প্লাস্টিক আমাদের বাড়ির আশেপাশের ড্রেনে ফেলে আমরা সৃষ্টি করি জলাবদ্ধতা। এই কোরবানির ঈদে রাজধানীর শান্তিনগর পরিণত হয়েছিল ‘লাল’ নগরে। বৃষ্টিতে কোরবানির রক্ত মিশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছিল যেটা সম্পূর্ন লাল রঙের ছিল। তাই প্লাস্টিকের বর্জ্যের সঠিক পুনঃব্যবহার বা রিসাইকেল দরকার।

আর এর সবচেয়ে ভালো রিসাইকেল হতে পারে রাস্তা নির্মাণ। প্লাস্টিকের বর্জ্য বিশেষ করে বোতলের বর্জ্য থেকে প্লাস্টিকের শিট তৈরি করে রাস্তা নির্মাণ করছে অনেক দেশ। এতে করে পরিবেশ দুইভাবে উপকৃত হবে। প্রথমত, বিটুমিন বা পিচ দিয়ে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের জন্যে প্রচুর জ্বালানি পোড়াতে হয়, এতে কাঠ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি বায়ুতে মিশছে প্রচুর পরিমানে কার্বন ডাই অক্সাইড। আর দ্বিতীয়ত, প্লাস্টিকের বোতল বা অন্যান্য প্লাস্টিকের একটি সঠিক গতি করা।

সবচেয়ে বড় দিকটিই কিন্তু বলা হয়নি। প্লাস্টিকের এই রাস্তা কিন্তু পিচ ঢালাই রাস্তা থেকে তিনগুণ বেশি টেকসই। রোদ বা বৃষ্টিতে এটি যেমন নষ্ট হয়না তেমনি এর ভেতর দিয়ে যেকোনো প্রয়োজনীয় পাইপ স্থাপন করাও সহজ। তাছাড়া এটি বৃষ্টির পানিও শোষণ করে। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও আছে প্লাস্টিকের রাস্তা। সেখানে ৩০০০ কিঃ মিঃ প্লাস্টিকের রাস্তা আছে।

বর্তমানে নেদারল্যান্ডসও তাদের দেশে এটা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের চিন্তা করছে। এটা নির্মাণে সময় খুব কম লাগে। তাছাড়া প্লাস্টিকের শিটগুলো সহজেই পরিবর্তন করা যায়। এবং নির্মাণেও সময় কম লাগে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভলকার ওয়েলসেস এটা নির্মাণ করতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডসের রটরড্যামে।

আমাদের দেশে যে পরিমানে প্লাস্টিকের বর্জ্য আছে বা প্রতি বছর হয় তাতে ৩ হাজার না ৩ লাখ কি. মি. রাস্তা নির্মাণ সম্ভব। যেহেতু ঢাকার বায়ু প্রচন্ড দূষিত তাই ঢাকা থেকে শুরু করে সকল বিভাগীয় শহরের রাস্তাগুলো এই পন্থায় নির্মাণ করা উচিত। তাতে বায়ু দূষণ রোধ হবে, নির্মাণ খরচ কমে যাবে। তাছাড়া পিচের রাস্তার ধুলাও কমে যাবে। প্লাস্টিকের রাস্তা নিশ্চিতভাবে ধুলা সৃষ্টি করে না। বিষয়টা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ভেবে দেখতে পারে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর