পর্দা নামল বইমেলার
পর্দা নামল বইমেলার
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০২-২৮ ২৩:২১:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর্দা নামল মঙ্গলবার। রাত সাড়ে ৮টায় শেষ হয়েছে মাসব্যাপী প্রাণের মেলা।

আবার অপেক্ষা শুরু। এক বছর পর ২০১৮ সালের ফ্রেবুয়ারিতে হবে পরের বইমেলা।

আগামীতে আরো সুন্দর বইমেলা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।

এবারের মেলায় বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিক্রিও বেশি হয়েছে। মাসব্যাপী লেখক-পাঠক-প্রকাশকের পদচারণায় মুখরিত ছিল বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ। মেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল এ দুই জায়গা। লেখক-প্রকাশকরা নতুন নতুন বই নিয়ে হাজির হয়েছিলেন পাঠকের সামনে।

বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবার ৬৫ কোটির বেশি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে ২৩ কোটি টাকা বেশি। ২০১৬ সালে ৪২ কোটি ৫০ লাখ, ২০১৫ সালে ২১ কোটি ৯৫ লাখ এবং ২০১৪ সালে ১৬ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। বইমেলায় প্রতিবছরই বিক্রি বাড়ছে।

শেষদিনে শেষ মুহূর্তে ছিল বই কেনার মহোৎসব। মেলার সময় ফুরিয়ে যাবার পরও স্টলগুলোতে ছিল পাঠকের ভিড়।

বাংলা একাডেমির পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শেষ দিনে সকাল ১১টায় খুলে যায় মেলার দ্বার। এরপর থেকেই বইপ্রেমীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন মেলার দুই প্রাঙ্গণেই। ধর্মঘটের কারণে রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল না করলেও বিকেলের পর সেই ভিড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে এসেছিলেন মেলায়। ঘরে ফেরার সময় হাতে করে নিয়ে গেছেন বইভর্তি ব্যাগ।

এবারের বইমেলায় অনেক ইতিবাচক দিক ছিল। এর মধ্যে রয়েছে- মেলার পরিসর বাড়ানো, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, মেলার বাইরে বারোয়ারি পণ্যের হাট বসতে না দেওয়া, আলোকসজ্জা বাড়ানো প্রভৃতি। যা দেখে মুগ্ধ অনেকে ।

তবে ত্রুটিও কম নয়। প্রবেশ পথে দায়সারা দুটি তোরণ ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। মেলায় প্রবেশ না করলে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে, এখানে বইমেলা হচ্ছে। মেলায় বসার ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল। এ ছাড়া মেলায় যেসব খাবারের দোকান ছিল, তাতে দাম ছিল অনেক বেশি।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি সংবাদ সম্মেলনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার অধিকাংশই পূরণ করেনি। মেলা প্রাঙ্গণে মিডিয়া সেন্টার নির্মাণের কথা ছিল। তবে মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি ঘর তৈরি করলেও সেখানে ছিল না কোনো কম্পিউটার, ছিল না বৈদ্যুতিক সংযোগ। ফলে সাংবাদিকদের সেখানে যেতে দেখা যায়নি। একটি ডিজিটাল নির্দেশিকা থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। পুরো মাস জুড়ে স্টলে স্টলে পাইরেটেড বই বিক্রি হলেও সেভাবে অভিযান চালানো হয়নি।

মেলার সমাপনী আয়োজনে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, এবারের মেলায় একাডেমি ও উদ্যান মিলে রেকর্ডসংখ্যক অর্থাৎ ৪১১টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৭ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাংলা একাডেমির দুটি প্যাভিলিয়ন ছিল। এবারের মেলায় মেলার নীতিমালা ও নিয়মাবলি লঙ্ঘন করায়, টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে ১০টির বিরুদ্ধে বিদেশি বই বিক্রি এবং নয়টির বিরুদ্ধে নীতিমালার ১৩.১৩ ও ১৩.১৪ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।

মেলা আয়োজনে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে আরো সুন্দর মেলা করতে চাই। এবারের সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে- মূল প্রবেশ পথে পরিকল্পনা অনুযায়ী দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণ করা যায়নি। মেলা শুরুর পর এলইডি মনিটর স্থাপিত হয়েছে। ইচ্ছামাফিক প্রত্যেক চত্বরে স্টল নম্বরযুক্ত ইলেকট্রিক বোর্ড লাগানো যায়নি। পূর্বদিকের শৌচাগারটি উন্নত হয়নি, মোড়ক উন্মোচনের মঞ্চটি বড় করা যায়নি। পর্যাপ্ত বসার ব্যস্থা ছিল না। মেলার মুল্যায়ন সভায় এসব দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

এ বছর বিভিন্ন গুণীজনের নামে পুরস্কার ঘোষণা করেছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। সমাপনী অনুষ্ঠানে সেসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিল্প সাহিত্য এর অারো খবর