প্রধানমন্ত্রীর আশা : বাংলা জাতিসংঘের ভাষা হবে
প্রধানমন্ত্রীর আশা : বাংলা জাতিসংঘের ভাষা হবে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০২-২২ ০১:৪৮:১৮
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলা একদিন জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। হয়ত একদিন এই দাবিটি বাস্তবায়ন হবে।’

মঙ্গলবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিন্নাত ইমতিয়াজ আলী, বাংলাদেশের ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি বিয়েত্রিস কালদান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইউনেস্কোর লিঙ্গুয়াপ্যাক্স ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা আনভিটা অ্যাবি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষাসচিব সোহবার হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষাভাষীর স্থান ষষ্ঠ। সেই হিসাবে জাতিসংঘের একটি ভাষা হিসেবে বাংলাকে গ্রহণ করে কি না, এ ব্যাপারে আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। যদিও এটা কার্যকর করতে অনেক রকম সমস্যা আছে। তবুও আমরা আমাদের দাবিটা তুলে রেখেছি। আমরা দাবিটা একদিন বাস্তবায়ন করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাতৃভাষাকে আমরা গুরুত্ব সবসময়ই দেব। কিন্তু তার জন্য অন্য কোনো ভাষার সঙ্গে বৈরিতা করে নয়। জ্ঞান অর্জনের জন্য আমরা অন্য যেকোনো ভাষা শিখতে পারি।’

অনেক রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে বাংলা ভাষা অর্জন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভাষা শহীদরা আমাদের এই ভাষা উপহার দিয়ে গেছেন। এর যেন অমর্যাদা না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং বলি। কিন্তু ইদানিং ইংরেজির সঙ্গে বাংলা মিশিয়ে একটা বিচিত্র শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে এটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে। তারা এমন ভাব দেখায়, যেন এভাবে কথা না বললে তাদের মর্যাদাই থাকে না। এই জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে আনতে হবে। যখন যেটা বলবে সেটা ঠিকমতো সঠিকভাবে বলবে, সঠিকভাবে উচ্চারণ করবে এবং ব্যবহার করবে।’

তিনি বলেন, ‘ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা এই ভাষার অধিকার অর্জন করেছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন করে তুলে ধরা হচ্ছে না। এটিকে বিশ্বের দরবারে আরো বেশি করে তুলে ধরতে হবে।’ এজন্য সবার প্রতি আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পরই আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কারণ আমাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় যে পৃথিবীর যত মাতৃভাষা আছে সেগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং গবেষণা করা। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ইনস্টিটিউট তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় কাজ শুরু করি। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন পাস করা হয় এবং এর উদ্বোধন করা হয়।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর