নিজামীর আপিলের শুনানি শেষ, রায় ৬ জানুয়ারি
নিজামীর আপিলের শুনানি শেষ, রায় ৬ জানুয়ারি
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-০৮ ০৫:৪৩:০৫
প্রিন্টঅ-অ+


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের যুক্তিতর্ক শেষ। রায় ঘোষণার জন্য আগামী বছরের ৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার রায়ের জন্য এদিন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতির এ বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর নিজামীর আইনজীবীরা আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন নাকি করেননি তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজামীর আইনজীবীরা আপিল শুনানির সময় দায় স্বীকার করেছেন বললেও তা অস্বীকার করেছেন নিজামীর পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এইদিন নিজামীর পক্ষে আপিলের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, নিজামীর আইনজীবী আপিল শুনানিতে অপরাধ স্বীকার করে সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, ‘উনারা যে সাবমিশন করেছেন, আমি যা বুঝেছি, তাতে আমার মনে হল, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের শীর্ষ আইনজীবীরা এই প্রথম তাদের অভিযুক্ত একজন নেতা যে অপরাধী, তা তারা স্বীকার করে নিলেন এবং স্বীকার করে নিয়ে শুধু মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করলেন।’

এর আগে তিন দিন ধরে নিজামীর পক্ষে আদালতে এ মামলার কয়েকটি অভিযোগের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা।

নিজামীর আইনজীবীরা তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার পর রাষ্ট্রপক্ষে তাদের যুক্তি আদালতে তুলে ধরা হয়। যেহেতু ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাই রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি।

গত ২৫ নভেম্বর আদালত এই তিন দিন (৩০ নভেম্বর, ১ ও ২ ডিসেম্বর) নিজামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ঠিক করেন। এর আগে গত ১৭, ১৮ ও ২৩ নভেম্বর নিজামীর আপিল শুনানিতে পেপারবুকের কিছু অংশ পাঠ করেন নিজামীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান। গত ৯ সেপ্টেম্বর নিজামীর আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের রায়ের অংশ পাঠ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে নিজামীর পক্ষে ১ নম্বর অভিযোগের তিনজন সাক্ষির জবানবন্দি আদালতে পড়ে শোনান অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির দণ্ড দেন। রায়ে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করার অপরাধে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেওয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন জামায়াতের আমির মতিউররহমান নিজামী। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন তিনি। মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে এ আপিল করা হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর