জরিমানার ৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি গ্রামীণফোন
জরিমানার ৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি গ্রামীণফোন
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০২-১২ ১৩:০০:৫১
প্রিন্টঅ-অ+


অবৈধ ও অনুমোদনহীন টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের অভিযোগে সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে গত বছরের নভেম্বরে ৩০ কোটি টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হলেও এখনো জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৪ সালে গো ব্রডব্যান্ড নামে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু করে সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এবং দুই আইএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড ও এডিএন টেলিকম। প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন নেয়ার সময় জানানো হয়, সেবাটির বিপণনে কাজ করবে গ্রামীণফোন। পাশাপাশি এটির সম্প্রসারণেও গ্রামীণফোন কারিগরি সহায়তা দেবে।

তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গো ব্রডব্যান্ডের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। বিটিআরসির কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে সংগঠনটি। এতে বলা হয়, নীতিমালা অনুযায়ী অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে গ্রাহককে সংযোগ দেয়ার সুযোগ না থাকলেও গো ব্রডব্যান্ড তা করছে। গো ব্রডব্যান্ড সেবার নামে গ্রামীণফোন সোনালী ব্যাংককে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে— এমন অভিযোগ করে আইএসপিএবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ট্রান্সমিশন সেবা দেয়ার জন্য গত বছরের জুলাইয়ে গ্রামীণফোনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বিটিআরসি। একই সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়া হয়। গ্রামীণফোন আগস্টে নোটিসের জবাব দিলেও তা কমিশনের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের বিষয়টি জানিয়ে গ্রামীণফোনকে ৬ নভেম্বর চিঠি দেয় বিটিআরসি। ১০ দিনের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। এছাড়া অগ্নি ও এডিএনকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গ্রামীণফোন জরিমানার অর্থ না দিয়ে ১৬ নভেম্বর পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করে। ২৯ নভেম্বর আবেদনটি নাকচ করে প্রতিষ্ঠানটিকে সাতদিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয় কমিশন। ৬ ডিসেম্বর ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নোটিস প্রদানের সময় থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে গ্রামীণফোন আবারো জরিমানার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। গত ১২ জানুয়ারি কমিশনের বৈঠকে ওই আবেদন নামঞ্জুর করে ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। এ সময়সীমাও গত ২২ জানুয়ারি শেষ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, জরিমানার পুরো অর্থ পরিশোধে গ্রামীণফোনকে আবারো ১০ দিন সময় দেয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এ অর্থ পরিশোধ করেনি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের ৫৫১টি শাখায় অনলাইন নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চুক্তি করে গ্রামীণফোন। প্রাথমিকভাবে চুক্তিতে অগ্নি ও এডিএনের নাম না থাকলেও পরে তা সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৪ সালে চালু করা এ সেবার মাধ্যমে দুই বছরে গ্রামীণফোন আয় করেছে ৩০ কোটি টাকা। অবৈধ সেবার মাধ্যমে আয় করা এ অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিটিআরসির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, আমরা এটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি। বিশ্লেষণ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিটিআরসিকে জানিয়েই গো ব্রডব্যান্ড সেবা চালু করেছিলাম আমরা।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার বিষয়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে গত বৃহস্পতিবার আবেদন করে গ্রামীণফোন। আদালত পাঁচদিনের মধ্যে বিটিআরসির কাছে ৩০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ওয়াইম্যাক্স সেবাদানকারী শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠান বাংলালায়ন ও কিউবির বিরুদ্ধে। রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে সংযোগ দেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। মূলত ওয়াইম্যাক্স ডঙ্গল বা ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির মতো তারবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে এসব গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে। এজন্য আকর্ষণীয় বিপণন কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর