১৫৮ প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টার লাইসেন্স বাতিল
১৫৮ প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টার লাইসেন্স বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০২-১০ ০০:৫৬:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+


১৫৮ প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ কল সেন্টার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। নবায়নের জন্য আবেদন না করা ও নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক লাইসেন্স ফি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের কল সেন্টার লাইসেন্সও রয়েছে।

লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করার বিধান রয়েছে। তবে কল সেন্টার লাইসেন্সধারী এসব প্রতিষ্ঠান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নবায়নের জন্য আবেদন করেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো বকেয়া ফিও পরিশোধ করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ইস্যু করা কল সেন্টার লাইসেন্স অবৈধ ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এসব লাইসেন্সের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা অবৈধ, যা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য কল সেন্টারের লাইসেন্স দেয়া হয়। এ সময় শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের নিয়ম থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নের আবেদন না করায় লাইসেন্স বাতিল করেছে কমিশন। লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ছাড়াও রয়েছে— আমরা আউটসোর্সিং, টেকিনোভিসতা, স্মার্ট টেকনোলজিস, কম্পিউটার সোর্স, রায়ানস আর্কাইভস, গেটকো বিজনেস সলিউশন্স, ভার্গো, রানার সিস্টেম টেকনোলজি, জ্যাপ টেকনোলজিস, এটুজেড বিপিও, ট্রাস্ট ব্যাংক, আশা, স্টামফোর্ড গ্রুপ, উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং, এটিএন কল সেন্টার, হোসাফ কল সেন্টার, খান ব্রাদার্স ইনফোটেক ও জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ মেডিকেল সার্ভিসেস।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ কল সেন্টার লাইসেন্সের কোনো বৈধতা নেই। লাইসেন্স নবায়নে আবেদনও করেনি তারা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত বার্ষিক লাইসেন্স ফিও প্রদান করেনি। এজন্য তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো চালু রয়েছে, তাদের কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
বর্তমানে কল সেন্টার লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮১টি। ২০০৮ সাল থেকে দেশে কল সেন্টার খাতে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। উন্মুক্ত লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে কল সেন্টার ও বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং খাতে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়া হয়। ২০১৪ সালে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাতটির লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজতর করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী কল সেন্টার ও বিপিও খাতের জন্য এ নিবন্ধন সনদ প্রদান করছে বিটিআরসি। কমিশনের লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ থেকে জারি করা এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কল সেন্টার ও বিপিও সেবা দিতে বিটিআরসির কাছ থেকে নিবন্ধন সনদ নিতে হবে। শুধু যেসব প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের জন্য কল সেন্টার সেবা দিয়ে থাকে, তাদের এ নিবন্ধন নিতে হবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের অভ্যন্তরে নিজের গ্রাহকদের সেবাদানের উদ্দেশ্যে কল সেন্টার স্থাপন করলে তার জন্য নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক— দুই ধরনের কল সেন্টারের জন্যই এ নিবন্ধন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে। যেকোনো প্রতিষ্ঠান একটি নিবন্ধনের আওতায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এ দুই ধরনের সেবাই দিতে পারবে। একটি কল সেন্টার অন্য কোনো কল সেন্টারকে সেবা দিতে পারবে না।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কল সেন্টার সেবা পরিচালনা করছে সেলফোন অপারেটররা। ফলে নিজেদের কল সেন্টার লাইসেন্স আর নবায়ন করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া নতুন লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় নিজেদের গ্রাহকদের সেবা দিতে লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর