ডিভি লটারি বন্ধে সিনেটে বিল
ডিভি লটারি বন্ধে সিনেটে বিল
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০২-০৯ ১৩:৫৫:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


সাত মুসলিমপ্রধান দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা জারি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রক্রিয়ার শুরু মাত্র।

ডাইভারসিটি ভিসা লটারি (ডিভি লটারি) বন্ধ ও পারিবারিক কোটায় অভিবাসীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাব রেখে মার্কিন সিনেটে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এ বিল পাস হলে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে আগত অভিবাসীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসবে।

প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে ডিভি লটারির মাধ্যমে ৫০ হাজার ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ পায়। পরে তারা গ্রিন কার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ডিভি লটারিতে আসা ব্যক্তিরা পরে পারিবারিক কোটায় তাদের অন্য আত্মীয়-স্বজনকেও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। সিনেটে উত্থাপিত বিলটি পাস হলে তা বন্ধ হয়ে যাবে।

দুজন রিপাবলিকান সিনেটর আরকানসাসের টম কটন ও জর্জিয়ার ডেভিড পারডিউ মঙ্গলবার অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রস্তাবসম্পর্কিত বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। তবে ভোটাভুটি হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালত নিষেধাজ্ঞার অংশবিশেষ রোধ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে আপিল করেছে, যা আদালতে ঝুলছে। এ অবস্থায় সোমবার হোয়াইট হাউস জানায়, এ তালিকায় আপাতত আর কোনো দেশের নাম যুক্ত করার পরিকল্পনা নেই।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসারের এ ঘোষণার পরদিনই ডিভি লটারি বন্ধ ও পারিবারিক কোটায় অভিবাসন সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে বিল আনা হলো।

বিলে বলা হয়েছে, অভিবাসনের সুযোগ পাওয়া স্বামী-স্ত্রী, তাদের সন্তান ও অসুস্থ বাবা-মাকে পারিবারিক কোটায় যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন। ভাই-বোন, অন্য আত্মীয়-স্বজনদের অভিবাসী হওয়ার সুযোগ দিতে পারবেন না তারা। এ ধরনের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবী জনগণের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্নভাবে ১০ লাখ মানুষ অভিবাসী হচ্ছে। এ বিলের লক্ষ্য হলো- এ সংখ্যা ৫ লাখে নামিয়ে আনা। তবে পেশাদারি ভিসার (এইচ১বি) ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

এই বিলের বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়নি। তবে বিল উত্থাপনকারী টম কটন ও ডেভিড পারডিউ দাবি করেছেন, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এ দুজন সিনেটর ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের ঘনিষ্ঠ। গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে ট্রাম্পের প্রধান পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

এই বিল থেকে স্পষ্ট হয়, ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব কতটা প্রবল। তবে সিনেটর কটন ও পারডিউ এখনই বিল পাসের প্রস্তাব আনছেন না। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে চরম অস্থিরতার মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ মুহূর্তে এ ধরনের বিল পাস হলে পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরের শেষের দিকের কোনো মাসে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর