কবে চালু হবে গর্জনিয়া সেতু?
কবে চালু হবে গর্জনিয়া সেতু?
২০১৭-০১-২৭ ২৩:১৬:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৫ সালের জুনে স্রোতের ধাক্কায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশের প্রায় ৪০০ ফুট দীর্ঘ সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে যায়। তারপর থেকে ওই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কক্সবাজার ও বান্দরবানের চারটি ইউনিয়নের ৩ লাখের মতো মানুষকে। এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা, কবে চালু হবে গর্জনিয়া সেতু?

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দক্ষিণ পাশে বিলীন হওয়া সড়কের অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। লোকজন ডিঙি নৌকায় সেই পানির ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে। আর সেতুর নিচে ও দুপাশে জমেছে বালুর ডিবি। সেখানে তামাকসহ নানা ফসলের চাষ করা হচ্ছে। কিছু লোক সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিঙি নৌকায় নদী পারাপার হতে গিয়ে এ পর্যন্ত চারজন মারা গেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে এলজিইডি প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁকখালী নদীর ওপর ১৬১ মিটার দৈর্ঘ্যের গর্জনিয়া সেতু নির্মাণ করে। সেতুটি রক্ষার জন্য ২০১৪ সালের এপ্রিলে নদীর তলদেশ খনন করে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু পলি জমে ওই অংশ ভরাট হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালের জুনে সেতুর দক্ষিণ পাশের প্রায় ৪০০ ফুট সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে যাওয়ায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া ও ঈদগড়ের সঙ্গে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও বাইশারী ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।

ক্যাজরবিল গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, গর্জনিয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য আগে কক্সবাজার শহরে নিয়ে বিক্রি করা হতো। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পেতেন। কিন্তু গর্জনিয়া সেতু বন্ধ থাকায় কৃষকেরা শাকসবজি কক্সবাজার শহরে নিতে পারছেন না। এতে তাঁদের কম দামে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।

ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে কক্সবাজারের ঈদগাঁও স্টেশন হয়ে ঈদগড়-গর্জনিয়া সড়ক দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে যেতে আগে সময় লাগত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। গর্জনিয়া সেতু বন্ধ থাকায় লোকজনকে রামু হয়ে ৪০-৫০ কিলোমিটার পথ ঘুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় লাগছে ১০ ঘণ্টারও বেশি।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বিলীন সংযোগ সড়কটি নির্মাণে স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমের উদ্যোগে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিন দিন আগে বিলীন সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বর্ষার আগেই সেতুর নিচের বালু খনন করে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করতে হবে। নইলে সেতুটিও ধসে পড়বে।

সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজের ঠিকাদার নাছির উদ্দিন শিকদার বলেন, উপজেলা পরিষদের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতু চালু করতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম বলেন, গর্জনিয়া সেতু সচল করতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার এই বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাংসদ সাইমুম সরওয়ার বলেন, পাউবোর বরাদ্দ পাওয়া গেলে নদীর তলদেশ খনন করে পানির গতিপথ পরিবর্তন করা হবে।
পাউবোর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, সেতুটি রক্ষা করতে হলে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর