আইটি খাতে নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না
আইটি খাতে নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না
২০১৭-০১-২৭ ২৩:১৩:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+


তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে নগদ সহায়তার দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নীরব। তবে অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলে দিয়েছেন, ‘নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না। কারণ, এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কঠিন রক্ষণশীলতা আছে। বরং নীতি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।’

সচিবালয়ে আইটি খাতে নগদ সহায়তার দাবিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বাধীন একটি দল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকে আইটি খাতকে অগ্রাধিকারমূলক খাত (থার্স্ট সেক্টর) ঘোষণা, ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া এবং আইটি খাতে স্থগিত হয়ে থাকা সম উদ্যোক্তা মূলধন তহবিল (ইইএফ) আবার চালুর দাবি জানানো হয়।

অর্থমন্ত্রী সবার কথা শুনলেও তেমন কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু বলেন, ‘আইটি খাতের জন্য ইইএফটা শুরু করা যেতে পারে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বিএসিসিও) পক্ষ থেকে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: আইটি ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত সেবা (আইটিইএস) খাতে রপ্তানি সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধে ইন্টারনেট দিয়ে সবকিছু করা অর্থাৎ ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) বৈশ্বিক আকার ও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ২০১৫ সালে আইওটির বৈশ্বিক আকার ছিল ১৩ হাজার কোটি ডলার, ২০২২ সালে যা ৮৮ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। আর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রাক্কলন হচ্ছে ২০১৮ সালের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার ও ২০২১ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার।

প্রবন্ধে জানানো হয়, বাংলাদেশে ১ হাজার ৫০০ আইটি ও আইটিইএস কোম্পানি রয়েছে, যার মধ্যে ৫০০ কোম্পানি ইতিমধ্যে রপ্তানি করে। যদিও কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) পর্যায়ের। এ ছাড়া আছে ৫০ হাজার ফ্রিল্যান্সার। বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪০ হাজার স্নাতক এবং প্রকৌশল ও আইটি খাত থেকে ১০ হাজার স্নাতক বের হয়।

আইটি ও আইটিইএস রপ্তানির গোলমেলে চিত্রও তুলে ধরা হয় প্রবন্ধে। বলা হয়, বেসিসের হিসাবে ২০১৬ সালে রপ্তানি হয় ৭০ কোটি ডলার এবং বিএসিসিওর হিসাবে তা মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে (বিবিএস) সফটওয়্যার রপ্তানি ২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, হয়তো রপ্তানি হলেও তার প্রমাণ থাকছে না। এটা লজ্জাজনক ব্যাপার। নগদ সহায়তা দেওয়া হলে রপ্তানি বাড়বে।

বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার এবং সাবেক সভাপতি শামীম আহসানও নগদ সহায়তার দাবি জানান।

অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘আইটি খাতে রপ্তানির তথ্য নিয়েই জটিলতা আছে। আর নগদ সহায়তা নিয়ে আমাদের রক্ষণশীলতা আছে। এটা দিয়ে অভ্যাস করালে কোনো খাতই নিজের পায়ে দাঁড়াবে না।’

নগদ সহায়তা দেওয়ার কারণেই পোশাক খাত ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে বলে মন্তব্য করেন জুনাইদ আহমেদ। জবাবে অর্থসচিব আবারও বলেন, ‘কত টাকা নগদ সহায়তা দেব? পরিসংখ্যানই তো নিশ্চিত নয়।’

জুনাইদ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানকে ভিত্তি ধরেও তো পাঁচ বছরের জন্য শুরু করা যায়।

অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অর্থসচিব তখন বলেন, ‘স্যার, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) পাঠানোর ক্ষেত্রেও নগদ সহায়তার একটা দাবি আছে। আমরা কিন্তু এটা করিনি।’

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন, সে ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা খুব কঠিন বিষয়। অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণের নামে অবৈধ কর সুবিধা নিয়েছেন। তদন্ত করা হচ্ছে।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর