পুরো ২০১৭ সাল রাজপথে থাকতে চায় আ.লীগ
পুরো ২০১৭ সাল রাজপথে থাকতে চায় আ.লীগ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০১-১৭ ১৫:৫৩:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


চলমান বছরজুড়েই রাজপথে থাকতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দলটি। যে কোনও মূল্যে এ বছর রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতেও বদ্ধপরিকর তারা। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে নামার কোনও সুযোগ না দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ক্ষমতাসীন দলে। আওয়ামী লীগ মনে করছে, চলতি বছর বিএনপি মাঠে নামার একটি পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে। তাই বছরজুড়ে রাজধানী ঢাকা থেক শুরু করে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলে রাখবেন ক্ষমতাসীনরা। এতে একদিকে সংগঠন চাঙ্গা হবে, অন্যদিকে বিএনপিও মাঠে নামতে সাহস পাবে না। এছাড়া নির্বাচনি প্রস্তুতিও অব্যাহত থাকবে।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, খুব সাবধানে চলতি বছর পার করতে চায় দলটি। তাদের মতে, নির্বাচন এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে বিএনপি মাঠে নামতে মরিয়া হয়ে উঠবে। সরকারবিরোধী একটি বড় আন্দোলন তারা গড়ে তুলতে চেষ্টায় রয়েছে। তাই ঝামেলামুক্ত পরিবেশে বছরটি পার করতে পারলে নির্বাচনি মাঠে তেমন বেগ পেতে হবে না আওয়ামী লীগকে। এ বছর বিভিন্ন দিবস; যেমন ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতার মাস মার্চ ও জুনে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান নিয়ে মাঠেই বেশি থাকার পরিকল্পনা রয়েছ দলটির। থাকবে রাজনৈতিক কর্মসূচিও। এর মূলে রয়েছে চলতি বছর মাঠ দখলে রাখার পরিকল্পনা। এ বছরই সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরার জন্য বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠানও চলবে।

জানা গেছে, জেলা সফর, তৃণমূল আওয়ামী লীগের সম্মেলন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড—এসব প্যাকেজ পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামী লীগ এ বছর মাঠ দখলে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। চলতি বছর ঘরের চেয়ে মাঠেই বেশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় তারা।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপি মাঠে নামার সামান্য সুযোগ পেলেও সেটা আওয়ামী লীগের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই ইতোমধ্যেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাদের ভেতরে যে ভয়-ভীতি ঢুকেছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য মামলার প্রয়োজন পড়লে সেটাও করবে ক্ষমতাসীনরা। আর এ জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, মাঠে থেকে সেগুলো নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘চলতি বছর আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। আমরা এগুলো পালন করব। বিশেষ করে দল গোছানো, তৃণমূলের সম্মেলন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে সারাদেশ সফরেও বের হব আমরা।’

জানতে চাইলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এই বছর আমাদের দল গোছানোর বছর। এ বছর মাঠেই বেশি থাকতে হবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।’

এ প্রসঙ্গে দলটি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘সরকার তিন বছর পার করেছে ইতোমধ্যে। নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে আমাদের হাতে আছে মাত্র এ বছরটিই।’ তিনি বলেন, ‘চলতি বছর আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে মাঠে নামার একটি পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে। তারা এই ইস্যুতে মাঠে নেমে জনসম্পৃক্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়। তাই ফ্রেব্রুয়ারি মাসে একটু বেশি কর্মসূচি থাকবে আওয়ামী লীগের। এছাড়া বছরজুড়ে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠান নিয়ে রাজধানীতে থাকবে নানা কর্মসূচি।’ রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরেও বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকবে বলে সূত্রটি জানায়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর