ব্রেকিং নিউজ বিজয় দিবসে দি ইঞ্জিনিয়ার্স-এর সকল পাঠক-পাঠিকা, গ্রাহক-অনুগ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, দেশবাসী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
দেশে একসঙ্গে এত র‌্যাব সদস্যের সাজা এটাই প্রথম
দেশে একসঙ্গে এত র‌্যাব সদস্যের সাজা এটাই প্রথম
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০১-১৭ ০২:০৬:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


হত্যা, গুম, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে একই মামলায় ২৫ জন র‌্যাব সদস্যকে সাজা দেওয়া হয়। ফৌজদারি অপরাধে একসঙ্গে এত র‌্যাব সদস্যের সাজার ঘটনা এটাই প্রথম। নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জনকে সাজা দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে র‌্যাবের সদস্যই ২৫ জন।

সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত ২৬ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ড পাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ২৫ জনই র‌্যাব-১১-এর সাবেক সদস্য। তাদের মধ্যে র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানাসহ ১৬ জন র‌্যাব সদস্যের ফাঁসির দণ্ড হয়েছে।

র‌্যাবের অধিনায়ক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে এর আগে চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক জুলফিকার আলী মজুমদারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মামলাটি চট্টগ্রাম আদালতে বিচারাধীন আছে। ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে তালসারা দরবার শরিফের প্রায় ২ কোটি টাকা লুটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাহিনী থেকে জুলফিকারকে চাকরি হারাতে হয়। গ্রেপ্তারও করা হয় তাকে।

দ্বিতীয় বৃহত্তম রায়: বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলা ছাড়া এক মামলায় একসঙ্গে ২৬ জনকে ফাঁসি দেওয়ার ঘটনাও নিকট অতীতে নেই বলে জানিয়েছেন নিম্ন ও উচ্চ আদালতের কয়েকজন আইনজীবী। বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংঘটিত হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বিডিআরের তিন শতাধিক সদস্যকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া নাটোরের আওয়ামী লীগ নেতা গামা হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ২১ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আজ সাংবাদিকদের বলেন, আমার জানা মতে, এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রায়। যেখানে ২৬ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার সাজাপ্রাপ্ত র‌্যাব সদস্যদের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে আছেন। তারা হলেন চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দ বালা, করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, হাবিলদার নাসির উদ্দিন, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান ও সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর।

পলাতক আটজন হলেন করপোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।

ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় ১১ মে একই থানায় আরেকটি মামলা হয়। এই মামলার বাদী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। পরে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ।সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা। চাঁদমারী এলাকায় নতুন কোর্টে দেখে শুনেই লোকজনকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর সাইরেন বাজলো। প্রিজন ভ্যানে আনা হলো দুই কারাগার থেকে সাত খুনের আসামিদের। র‌্যাবের চাকরিচ্যুত উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তা ছাড়া বেশিরভাগ আসামিকেই ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আনা হয়েছে।প্রথমে কয়েকজন ঢোকানোর পর এজলাসে থাকা লোহার খাঁচার বাইরে রাখা হয় তারেক, আরিফ ও রানাকে। এরপর বাকিদের সঙ্গে সবশেষে হেলমেট পরিয়ে ঢোকানো হলো নূর হোসেনকে। বেশিরভাগ আসামি ভয়ার্ত চোখে আদালতের পানে তাকিয়ে। যদিও তখনও আদালত বসেননি। কিন্তু শুরু থেকে নির্বিকার ছিলেন র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা। আর নুর হোসেনকে দেখা গেছে কিছুটা উচ্ছ্বল।

সোমবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটে আদালত বসলেন। এরপর আসামিদের হাজিরা ডাকা হলো। সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরু করলেন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ জেলা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। বললেন, অভিন্ন দু’টি মামলার সাজা একইরম। এরপর সাজা ঘোষণা শুরু করেন।৫ মিনিটের ওই রায়ে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দায়ে প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর পরই নুর হোসেন খাঁচার ফাঁক গলে এগিয়ে কথা বললেন তারেক সাঈদের সঙ্গে। কি যেন কথা শেষে কান্নারত অন্য আসামিদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন নূর হোসেন। কারও মাথায় কিংবা পিঠে হাত বুলিয়ে। আবার পুলিশের সঙ্গেও আগ বাড়িয়ে কথা বললেন নুর হোসেন। কিন্তু তার মধ্যে ভয়, টেনশন কিংবা হতাশার ছবি দেখা যায়নি।এরপর পুলিশ সদস্যরা আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে একে একে সকল আসামিকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যান। পরে গাড়িতে ওঠানোর সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মারতে উদ্যত হন আসামি মোখলেসুর রহমান।আসামিদের নিয়ে যাওয়ার পর আদালতের বাইরে শত শত উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। ফাঁসির রায় কার্যকর চেয়ে মিছিলও করেন আইনজীবীরা।

এতোসব ভিড়ের মাঝে সন্তুষ্টি আর আনন্দের কথা জানান নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। কিন্তু কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকার। কারণ, ফাঁসির রায় হলেও তার বাবাতো আর ফিরে আসবেন না। বার বার এ ধরনের কথা কান্না করছিলেন সুস্মিতা।তবে বাবার বীরত্বের কথা উল্লেখ করতে ভোলেননি তিনি। সুস্মিতা বলেন, বর্তমান সমাজে এমন কেউ আছেন কি-না জানি না, যিনি নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে অচেনা লোককে বাঁচাবেন। যিনি সব সময় দেওয়ানি মামলা করতেন, সেই তিনি অন্যের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন। বাবার এ বীরত্বের জন্য গর্ববোধ করি।

চন্দন সরকারের ড্রাইভার নিহত ইব্রাহীমের মাও এসেছিলেন আদালত অঙ্গনে। তিনিও রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। তবে পুত্রশোক এখনো ভুলতে পারেননি। তিনিও চান, দ্রুত রায় কার্যকর।

কিন্তু কয়েকজন আসামির মতো প্রায় নির্বিকার তাদের আইনজীবীরাও। আইনজীবী খোকন সাহা এবং আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের কি করার আছে। আমাদের কাজ হচ্ছে, আসামিদের আইনি সহায়তা দেওয়া। সেটি দিয়েছি। আদালত যেটা মনে করেছেন, সে অনুসারে রায় দিয়েছেন। এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। আসামিরা এখন যদি মনে করেন, তাহলে আপিল করবেন। তবে নূর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি আপিল করবেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর

top
ব্রেকিং নিউজ বিজয় দিবসে দি ইঞ্জিনিয়ার্স-এর সকল পাঠক-পাঠিকা, গ্রাহক-অনুগ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, দেশবাসী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
facebook
Advertisement