বুয়েট-এর সাবেক শিক্ষার্থীরা গড়ছেন ১০০ কোটি টাকার ফান্ড
বুয়েট-এর সাবেক শিক্ষার্থীরা গড়ছেন ১০০ কোটি টাকার ফান্ড
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০১-০৭ ১০:৪০:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


শিক্ষা-গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির জন্য শত কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

শুক্রবার সকালে বুয়েট খেলার মাঠে ‘বুয়েট অ্যালামনাই’র মহাপুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফান্ড সংগ্রহ শুরু হয়।

সাবেক শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ‘বুয়েট অ্যালামনাই’ এ মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করে। অ্যালামনাই’র সভাপতি ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট অ্যালামনাই’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড’র তড়িৎকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমান।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বুয়েটের সর্বজ্যেষ্ঠ অ্যালামনাই (পুরকৌশল বিভাগের স্নাতক) প্রকৌশলী ইমাম উদ্দিন, অ্যালামনাই’র মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ১৯৬৬ সালের পুরকৌশল বিভাগের স্নাতক ইসমাত-উদ-দ্দৌলা ১ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে শত কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় বুয়েটের ৬২ ব্যাচের সদস্য ও কাজী ফার্মস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী শাহেদ ১০ কোটি টাকার অনুদান দেবেন বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমরা যে যত বড়ই হই না কেন, শৈশবে ফিরে যাই। শৈশবে ফিরে যাওয়া মানেই জীবনে ফিরে যাওয়া। এখানে যারা এসেছেন তারা জীবনে ফিরে যেতেই এসেছেন। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে বলেই এসেছেন, কাতরতার জন্য এসেছেন। এ সময় তিনি তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশ হবে শান্তির প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক, সুশানের প্রতীক- এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। আজ এমন একটি পরিস্থিতিতে যদি টেকসই উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে প্রকৌশলীদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রয়োগের দক্ষতা অর্জন করা। এ কাজটা করতে হলে আমাদের পুরনো ধারণার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী অ্যালামনাই’র বিভিন্ন কাজ তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বুয়েট ও দেশের কল্যাণে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি। সর্বজ্যেষ্ঠ অ্যালামনাই প্রকৌশলী ইমাম উদ্দিন তার জীবনের বিভিন্ন গল্প তুলে ধরেন।

এবারের পুনর্মিলনীর আয়োজনের মধ্যে ছিল- অ্যালামনাই সন্তানদের সংবর্ধনা, বুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন। এ বছর দেশের বাইরে থেকেও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অসংখ্য শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে এসে বুয়েটে পড়াশোনা করেছে এমন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও পুনর্মিলনীতে যোগ দিতে দেখা গেছে। এবার অন্যবারের তুলনায় অধিকসংখ্যক অ্যালামনাই সদস্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিক্ষা এর অারো খবর