বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে আনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ
বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে আনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৭-০১-০৫ ১৬:৫৬:২৫
প্রিন্টঅ-অ+


জাতিসংঘের নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ কমিটির (কমিটি অন দ্য এলিমিনেশন অব ডিসক্রিমিনেশন অ্যাগেইনস্ট ওমেন–সিইডিএডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে আনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনে সংসদে সংরক্ষিত আসন, মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসাও করা হয়।

সিইডিএডব্লিউ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরিবার ও সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যকার কাজ ও দায়িত্বে কিছু গৎবাঁধা বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বাল্য বিয়ের হার এখানে। ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ পেরোনোর আগেই। এঅবস্থায় আইন সংশোধন করে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার সুপারিশ মূলত বাল্য বিয়েকেই ন্যায্যতা প্রদান করে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিটি এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে পারিবারিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ২০১৩ সালে সরকারের গ্রহণ করা পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নীতিমালা এবং ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান-এর জন্য সাধুবাদ জানানো হয়। তবে এখনও দেশে ফতোয়া, যৌতুক ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে পরিবারে ও জনসমক্ষে পারিবারিক নারী নির্যাতনের ঘটনা অহরহ চোখে পড়ে। বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়নি, যা উদ্বেগের কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কমিটি ওই প্রতিবেদনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সাফল্যের প্রশংসা করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির আগে ঝরে যাওয়া ছাত্রীদের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে এখনও বাল্য বিয়ে, যৌন হয়রানি, অল্প বয়সে গর্ভধারণ ইত্যাদি কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শ্রম আইন সংশোধন করে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করায় প্রতিবেদনে প্রশংসা করা হয়। তবে গৃহকর্মীদেরকে মূল শ্রম খাতে নিয়ে আসা এবং তাদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশে বিবাহিত নারীরা ঘরের সকল কাজ করে থাকেন। কিন্তু তাদের ওই কাজের কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বিয়ে, কাজ ও সম্পত্তিতে নারী-পুরুষকে সমান স্বাধীনতা ভোগ করার মতো প্রেক্ষাপট বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। যদিও সাধারণ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কয়েকজন নারীই রাজনীতির শিখরে পৌঁছাতে পেরেছেন। একইভাবে বিচার বিভাগ, প্রশাসনে নারীদের সংখ্যা কম। সেই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পররাষ্ট্র বিভাগ, শিক্ষা খাতের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের সংখ্যা যৎসামান্য বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

নাগরিকত্ব আইন সংশোধনেরও প্রশংসা করা হয় ওই প্রতিবেদনে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, নারী বা পুরুষের পরিচয়ে তাদের সন্তান নাগরিকত্ব লাভ করতে পারবে।

সূত্র: বিবিসি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর