১২ হাইটেক পার্ক থেকে এক হাজার কোটি ডলার আয়ের স্বপ্ন
১২ হাইটেক পার্ক থেকে এক হাজার কোটি ডলার আয়ের স্বপ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৭-০১-০৫ ১২:০৭:১৩
প্রিন্টঅ-অ+


সরকার সারাদেশে ১২টি হাইটেক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পার্কগুলো তৈরির কাজ শেষ হলে সেখানে বিপুল সংখ্যক বেকারের কর্মস্থানের ব্যবস্থা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানও এসব পার্কে কাজের সুযোগ পাবে। সরকার আশা করছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এসব হাইটেক পার্ক থেকে এক হাজার (১০ বিলিয়ন) কোটি ডলারের সফটওয়্যার ও সেবা রফতানি করা সম্ভব হবে। ২০২০ সালের মধ্যে যার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ১২টি হাইটেক পার্ক নিয়ে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ‘হাইটেক পার্কগুলো’ নিয়ে তিন মেয়াদের একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ২, ৫ ও ১০ বছর মেয়াদি ওই পরিকল্পনায় একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপও তৈরি করেছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ওই পরিকল্পনা অনুসারে এগিয়ে যেতে পারলে উল্লিখিত টার্গেটে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর পাশাপাশি ওই পরিকল্পনাপত্রে হাইটেক পার্কগুলোর বর্তমান অবস্থা, কাজের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। পিপিপি মডেলে বাস্তবায়নের জন্য ৩৫৫ একর জমির মধ্যে ২৩২ একর জমি ৫টি ব্লকে ভাগ করে উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩ নম্বর ব্লকে একটি মাল্টি টেনেন্ট বিল্ডিং, ২ নম্বর ব্লকে ১টি এমটি বিল্ডিং এবং ৫ নম্বর ব্লকে একটি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল বিল্ডিং নির্মাণের কাজ চলছে। পার্কটিকে কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে মৌলিক অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

যশোরে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ১৫তলা ভবনের প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত ৪টি ফ্লোর গত ৯ জুন ১২টি আইটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভবনের অবশিষ্ট অংশসহ ডরমিটরি ভবন, ক্যান্টিন ও এমপিথিয়েটারের নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সাব-স্টেশন ও জেনারেটর বিল্ডিং, ৩৩ কেভিএ সাব স্টেশন, ৩৩ কেভিএ লাইন, ফাইবার অপটিক লাইন এবং অ্যাপ্রোচ রোডের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

সিলেটে ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমিতে পিপিপি মডেলে সিলেট ইলেকট্রনিক সিটি তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। সিলেট ইলেকট্রনিক সিটির প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি গত ৮ মার্চ অনুমোদিত হয়েছে। ‘ডেডিকেটেড’ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের লক্ষ্যে ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের সাইট সার্ভে, সয়েল টেস্টও শেষ হয়েছে।

নাটোরে তৈরি হচ্ছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। পরিত্যক্ত জেলখানায় ব্যবহারযোগ্য পুরনো ভবনগুলো মেরামত ও আধুনিকায়ন করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে সেন্টারটি। এরইমধ্যে ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের জনতা টাওয়ার হলো সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ওই ভবনের চতুর্থ তলাটি বিভিন্ন কোম্পানিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি প্রতিষ্ঠান সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

রাজশাহীর পবার নবীনগরে গড়ে উঠছে বরেন্দ্র সিলিকন সিটি। ৩১ একর জমিতে একটি আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদিতও হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিটি বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘হাইটেক পার্ক নিয়ে দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে। স্বল্প খরচে জায়গা, নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা এবং উন্নত যাতায়াত সুবিধা থাকাসহ বিভিন্ন কারণেই এসব পার্কের প্রতি সবার আগ্রহ।’ আর দেশের উন্নয়নে টার্গেটি ঠিক রাখতেও এসব হাইটেক পার্কের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে (আইনের আওতায়) বেসরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘোষণার গাইডলাইনের আওতায় ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি ৯টি বেসরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাই-টেক পার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ডেভেলপার বা আইটি কোম্পানিগুলোর জন্য সরকার বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১০ বছর পর্যন্ত ট্যাক্স মওকুফ, পার্ক ডেভেলপারের জন্য ১২ বছর পর্যন্ত ট্যাক্স মওকুফ, মূলধনী সম্পত্তি ও মেশিনারিজের ওপর আমদানি শুল্ক মওকুফ, প্রতিটি হাই-টেকপার্ক ওয়্যার হাউজ স্টেশন হিসেবে বিবেচিত, ইউটিলিটি সার্ভিসের ওপর ভ্যাট মওকুফ, পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে লভ্যাংশের ওপর ট্যাক্স মওকুফ, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়ের ওপর আয়কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, বাস্তবায়নাধীন ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে। হাইটেক পার্কগুলোর মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার (৫ বিলিয়ন) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সফটওয়্যার ও সেবা রফতানি করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর