প্রথম টি টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪১ রান
প্রথম টি টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪১ রান
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৭-০১-০৩ ১৩:৪১:০৬
প্রিন্টঅ-অ+


নেপিয়ারের উইকেটকে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গোদ্যান মনে করেই টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু গোটা ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ মাহমুদউল্লাহ ছাড়া অধিনায়কের চাওয়াকে সম্মান জানাতে পারলেন না বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানই। মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত ফিফটিটি ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্র ছন্নছাড়াই। ওয়ানডের ‘ফ্লপ’ ব্যাটসম্যানের ইনিংসের ওপর ভর করেই প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮ উইকেটে ১৪১ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আজও ছিল উইকেট দিয়ে আসার প্রতিযোগিতা। ইমরুল কায়েস, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান—উইকেট দিয়ে এসেছেন এরা সবাই। সৌম্য সরকারের বাজে সময়টা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। উইকেটে টিকেছেন মাত্র এক বল। সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন—তিনজনই নিজেদের ইনিংসের শুরুটা ভালো করেছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহ ফিফটি করলেও ইনিংসের একেবারে শেষ ওয়ার পর্যন্ত খেলে আসতে পারেননি।
দলের ৫ রানের মাথায় প্রথম আউট হন ইমরুল কায়েস। খুবই দৃষ্টিকটু এক শট খেলে। অফস্টাম্পের বাইরের একটি বলে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে তিনি ক্যাচ দেন উইকেটকিপার লুক রনকিকে। তামিম ফেরেন অভিষিক্ত বেন হুইলারের বলে টম ব্রুসের হাতে ধরা পড়ে। তাঁর বলটিও ছিল অফস্টাম্পের বাইরে, কিন্তু বলে ছিল বাউন্স, কাঁধ সমান বাউন্স। সেটিকে হুক করতে গিয়েই ব্রুসের হাতে ক্যাচ দেন তামিম। বলটি জায়গামতো না গিয়ে উঠে যায় লং অনের দিকে। সাব্বির আউট হয়েছেন ফার্গুসনের একটা ফুলটস বলে। আউট হওয়ার আগে ভালোই খেলছিলেন। বল ব্যাটে আসছিল তাঁর। কিন্তু ফার্গুসনের ফুলটসটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে তিনি ধরা পড়েন ম্যাট হেনরির হাতে। সাব্বির করেছিলেন ১৬ রান।
নিজের ইনিংসটাকে বেশিদূর টেনে নিতে পারেননি সাব্বির রহমান। ছবি: এএফপিসাব্বির আউট হওয়ার পরের বলেই বাজে ফর্মে থাকা সৌম্য সরকারকে ফেরান ফার্গুসন। তাঁর এই বলটি ছিল বেশ দ্রুতগতির। ১৪৮ কিলোমিটার বেগের এই বলটি অফস্টাম্পের বাইরেই ছিল। কিন্তু সৌম্য পা নিয়ে না খেলে খোঁচা দিয়েই সর্বনাশ ডেকে আনেন। একটু বাড়তি বাউন্সের বলটি তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় গালিতে কোরি অ্যান্ডারসনের হাতে।
সাব্বির আর সৌম্য ফেরার পর বাংলাদেশ তথন দারুণ বিপর্যয়ে। ৩০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলকে কিছুটা টেনে নিয়ে যান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। এই দুজন ৩২ বলে ৩৭ রানের একটি জুটি গড়েছিলেন। সাকিব করেছিলেন ১৪ বলে ১৪ রান। একটি বাউন্ডারিও মারতে পারেননি দেখেই হয়তো গ্র্যান্ডহোমের অফস্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু টপ এইজ হয়ে বলটি চলে যায় মিড উইকেটে—মিচেল স্যান্টনারের হাতে। মোসাদ্দেক ভালো খেলছিলেন। ১৭ বলে করেছিলেন ২০ রান। মেরেছিলেন ২টি ছয়। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৩২ রানের জুটির অংশীদারও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও স্যান্টনারের বলে অ্যান্ডারসনের হাতে ক্যাচ দেন।
মাহমুদউল্লাহ ৫২ রান আসে ৪৭ বলে। ছিল তিনটি করে চার ও ছয়ের মার। তাঁর এই ইনিংসটি না হলে দলের সংগ্রহটা ভদ্রোচিত হয় না কোনোভাবেই। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের লক্ষ্যটা কবর দিয়েছেন ব্যাটসম্যানরাই। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের দেওয়া ১৮টি ওয়াইড বাংলাদেশের সংগ্রহে ভালো অবদান রেখেছে।

অথচ ১৮০ রান ওঠার মতোই উইকেট নেপিয়ারে।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তিনটি উইকেট নিয়েছেন অভিষিক্ত লোকি ফার্গুসনের। লাইন-লেংথ ও গতি দিয়ে তিনি বারবারই বিভ্রান্ত করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। আরেক অভিষিক্ত বেন হুইলার নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ম্যাট হেনরি, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও কোরি অ্যান্ডারসন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর