যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সব দফতরে কমিটি হচ্ছে
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সব দফতরে কমিটি হচ্ছে
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১২-০৫ ০৭:৩৯:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+


প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়সহ দেশের সব সরকারি দফতরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। হাইকোর্টের ঘোষিত রায়ের নির্দেশনার আলোকে শিগগিরই অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক অফিস আদেশে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগমকে আহ্বায়ক এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মো. খালেদ-উর-রহমানকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ইয়াসমিন বেগম, উপসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহেনা খানম। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের একজন করে প্রতিনিধিও কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কর্মরত নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি যৌন হয়রানিমূলক কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে কমিটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জানতে চাইলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, সরকার যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। আইনটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই তা সংসদে পাস করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিগগিরই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।

জানা যায়, ২০০৮ সালে মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশন নং-৫৯১৬। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিবেশ তৈরিতে ২০০৯ সালের ১৪ মে এক যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সম্ভব হলে মহিলাদের নেতৃত্বে কমপক্ষে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করার কথা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশনার আলোকে বিভিন্ন দফতরে নামমাত্র কমিটি গঠন করলেও তা তেমন সক্রিয় ছিল না। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে এবং তা তদন্তে প্রমাণও হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়। কিছু কিছু সরকারি দফতরে ইতিমধ্যে এ ধরনের কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী কর্মকর্তা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ে কাজ করছি। কিছু সমস্যার সম্মুখীন হলেও বড় ধরনের বিপদে পড়িনি। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তো প্রশ্নই আসে না। তারপরও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগে নামমাত্র কমিটি থাকলেও তা সক্রিয় ছিল না। আমি মনে করি, এতে প্রশাসনে নারীদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী রোববার বলেন, মহামান্য আদালত ২০০৯ সালে এ ধরনের কমিটি করতে নির্দেশ দিলেও সরকারের বিভিন্ন দফতর তা বাস্তবায়ন করেনি। পরে রায় বাস্তবায়ন চেয়ে আমি আবারো রিট করি। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কমিটি গঠন করছে। এটার জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। তিনি অভিযোগ করেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। অথচ সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের কোনো শাস্তি হয় না। উদাহরণ দিয়ে সালমা আলী বলেন, সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির সঙ্গে জড়িত একজন শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
(উবায়দুল্লাহ বাদল)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর