নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু হবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়ক
নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু হবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়ক
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১২-২৮ ১৩:১২:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়কের মূল নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হতে পারে। আগামী বছরের এপ্রিলের শুরুতে উড়ালসড়ক যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের জন্য প্রায় দুই বছর ধরে চলে আসা জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। মূল উড়ালসড়কের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে নগরের জিইসি মোড়ে চারটি ও ২ নম্বর গেটে দুটি র্যা ম্পের (গাড়ি ওঠানামার পথ) নির্মাণকাজ। নগরের সিডিএ অ্যাভিনিউতে এ উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চে।
সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ আছে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। তবে মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করে মূল উড়ালসড়ক গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সৌন্দর্যবর্ধনসহ কিছু কাজ বাকি থাকবে। এসব কাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান দাবি করেন, নগরের প্রধান সড়কটিতে উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় ভয়াবহ যানজট ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা ছিল সবার মধ্যে। তবে সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তা হয়নি।
সিডিএর প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, এ উড়ালসড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত মূল উড়ালসড়কের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার। ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল উড়ালসড়কের ৯৩৯টি পাইলিংয়ের মধ্যে এখন বাকি আছে ৩৩টি। ৯৩টি কলামের মধ্যে ৯১টিই করা হয়েছে। ৭৪৪টি গার্ডারের মধ্যে ইতিমধ্যে বসানো হয়েছে প্রায় ৭০০টি।
প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-রেঙ্কিন জেভির প্রকৌশলী মনির হোসাইন বলেন, এ উড়ালসড়ক নির্মাণে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। এখন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়ের দুই থেকে তিন মাস আগেই মূল উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, মূল উড়ালসড়কের পর র্যা ম্পগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এটির জন্য এক বছর সময় রাখা হয়েছে। তবে তার আগেই শেষ হবে।
গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, উড়ালসড়কের ওঠানামার দুই প্রান্ত ছাড়া অন্য পিলারগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২ নম্বর গেট ও ওয়াসার মোড় ছাড়া অন্যান্য অংশে গার্ডারও স্থাপন করা হয়েছে। ২ নম্বর গেট অংশে র্যা ম্প নির্মাণ করার জন্য বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের মাঝখানে দেওয়া হয়েছে টিনের ঘেরা। এ অংশে এখন কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের জন্য টিনের ঘেরা দেওয়ায় সড়ক সংকুচিত হয়ে বিভিন্ন মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সিডিএ সূত্র জানায়, জিইসি মোড়ে নতুন করে র‍্যাম্প নির্মাণ করায় সম্পূর্ণ উড়ালসড়কের বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা। প্রথমে ৪৬২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও এখন ব্যয় হবে ৬৯৮ কোটি টাকা। গত ২২ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এ সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, মূল প্রকল্পে জিইসি মোড়ে চারটি র্যা ম্প, রাস্তা সংস্কার, নতুন নালা নির্মাণে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এখন সংশোধিত প্রকল্পে এসব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উড়ালসড়কের ওপর ও নিচে ১ হাজার ৪০০টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে, যার জন্য আগে কোনো বরাদ্দ ছিল না।
(সুজন ঘোষ)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর