আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১২-২৬ ২২:০০:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রশাসন দেশটিতে পণ্য আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে বাংলাদেশসহ সব দেশকে সব পণ্যে এ বাড়তি শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা সিএনএন গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুল্ক আরোপের এ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিমের (ওবামা প্রশাসনের বিদায়ের পর যাঁরা দায়িত্ব নেবেন) কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। ট্রাম্প নির্বাচনের আগে যে কর সংস্কার নীতির কথা বলে আসছিলেন, এর অংশ হিসেবে এ শুল্ক আরোপ হতে পারে। এ পরিকল্পনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যের অঙ্গনে শোরগোল পড়ে গেছে।
যাঁকে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, সেই রেইনস প্রিবাস সম্প্রতি ওয়াশিংটনের ব্যবসাক্ষেত্রের মোড়লদের সঙ্গে এক বৈঠকে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান। তবে সিএনএন ট্রানজিশন টিমের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, সংখ্যাটি বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে। এখন সেটা নিয়েই জোর আলোচনা চলছে। সিএনএন বলছে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হবে, অন্যদিকে এ ঘটনা বাণিজ্য যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো জানাচ্ছে, ২০১৫ সালে সেখানে বাংলাদেশ প্রায় ৫৯৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে আমদানি করেছে প্রায় ৯৪ কোটি ডলারের পণ্য।
নতুন শুল্ক বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, এ ধরনের শুল্ক আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে চীনের মতো দেশ বসে থাকবে না। তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে, যা বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। এতে বিশ্ববাণিজ্য সংকুচিত হবে। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে বাংলাদেশও থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন আমদানি করা শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক গড়ে ২ শতাংশ। এর মধ্যে আবার অর্ধেক পণ্য আমদানি হয় শুল্কমুক্ত সুবিধায়। ভারত, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোও সেখানে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার (জিএসপি) বিভিন্ন হারে শুল্ক ছাড় পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২ হাজার ৭৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে রপ্তানি করেছে ২ হাজার ২৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩২ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে চীন থেকে। ২০১৫ সালে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ হাজার ৩২৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৪ গুণ। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের পরে শীর্ষ দশে আছে মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, জার্মানি, কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত ও ইতালি।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্লাস্টিক, সিরামিক, গলফ খেলার উপকরণ, কার্পেট, চশমা, চুরুট, পতাকাসহ কিছু পণ্য জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছিল। তবে এ তালিকায় পোশাক ছিল না। পোশাকের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পরিমাণ সামান্য। ২০১৩ সালে দেশটি বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধাই স্থগিত করে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর