‘ই-জুডিসিয়ারি’ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল হচ্ছে বিচার বিভাগ
‘ই-জুডিসিয়ারি’ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল হচ্ছে বিচার বিভাগ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১২-২৬ ০০:৪৮:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


দেশের বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজড হচ্ছে। এজন্য হাতে নেওয়া হয়েছে ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প। সরকারের আইন ও বিচার বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এই প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। যা বাস্তবায়ন করবে আইসিটি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল তথা বিসিসি।

এ প্রকল্পে ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা, বিচার ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনিক ও বিচার সংক্রান্ত কার্যক্রম অটোমেশন, ই-কোর্ট রুম স্থাপন এবং বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইসিটি সক্ষমতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, আগে এই প্রকল্পের নাম ছিল ই-জুডিসিয়ারি পাইলট প্রজেক্ট। বর্তমানের নামকরণ করা হয়েছে ই-জুডিসিয়ারি প্রজেক্ট। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত।

প্রসঙ্গত, ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্পের প্রস্তাব ১২ জুলাই একনেকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (নির্বাহী কমিটি) উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের কর্মপরিধি বৃদ্ধি করে ১০ জেলায় ই-কোর্ট স্থাপনের পরিবর্তে ৬৪ জেলায় ই-কোর্ট স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ই-জুডিসিয়ারি সম্পর্কে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বিচার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে ডিজটালাইজেশন করা জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) উদ্যোগে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সীমিত সংখ্যক বিচারক, কর্মকর্তা, কর্মচারি, গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা ইত্যাদি কারণে যথাসময়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা ও রায় প্রদান করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রায় ৩০ লাখ বিচার কার্যক্রম অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে এবং এ সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

পলক বলেন, ‘শুরুতে আইন ও বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ, নাটোর, যশোর, মৌলভীবাজার এবং রংপুর জেলায় (১০টি জেলায়) পাইলট আকারে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ৬৪ জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’

আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা, বিচার ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনিক এবং বিচার সংক্রান্ত কার্যক্রম অটোমেশন, ই-কোর্ট রুম স্থাপন এবং বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইসিটি সক্ষমতা উন্নয়ন।

এই প্রকল্পের কর্মপরিধিতে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচারের আওতায় বিচার ব্যবস্থার জন্য এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার উন্নয়ন, বিচার ব্যবস্থার জন্য এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যারের উন্নয়ন, বিচার ব্যবস্থাধীন সব অফিস সংযুক্ত করে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) তৈরি, সুপ্রিম কোর্টে ডাটা-সেন্টার আপগ্রেডেশন, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপন, দেশের ৬৪ জেলার ১ হাজার ৪০০টি কোর্ট রুমকে ই-কোর্টরুমে রূপান্তর, নিরবচ্ছিন্ন বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা ছাড়া ৬৩ জেলায় ৬৩টি মাইক্রো ডাটা-সেন্টার স্থাপন এবং সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টারের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন। এছাড়া বিচারকদের ২০০০ ট্যাব বা ল্যাপটপ প্রদান, সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ডরুম অটোমেশন এবং পুরনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজ করা (পাইলট আকারে), আগের বিভিন্ন মামলার রেকর্ড এবং এ সংক্রান্ত রায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ডিজিটাল এভিডেন্স রেকর্ডিং ব্যবস্থা উন্নয়নও এই কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টসহ অন্যান্য জেলার কোর্টরুমের জন্য বায়োমেট্রিক অ্যাটেন্ডেন্স সিস্টেম স্থাপন, ই-কোর্ট রুম বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট নতুন আইন প্রণয়ন এবং প্রচলিত আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন প্রস্তাব করা, বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান, ৬৩ জেলায় বিচারকদের বাসভনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইসিটি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়াও এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর