ঢাকা কেন্দ্র ও এসবিএমএর যৌথ উদ্যোগে আইইবিতে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ষ্টীল স্ট্রাকচার সেমিনার অনুষ্ঠিত
ঢাকা কেন্দ্র ও এসবিএমএর যৌথ উদ্যোগে আইইবিতে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ষ্টীল স্ট্রাকচার সেমিনার অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১২-১৮ ২২:৫২:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+




আইইবি, ঢাকা কেন্দ্র এবং স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশন(এসবিএমএ) এর যৌথ উদ্যোগে ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ রবিবার আইইবি মিলনায়তনে International Conference on Steel Structures New Era in Development এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সকাল দশটায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বিভিন্ন ষ্টীল কোম্পানির স্থাপিত স্টল পরিদর্শনের মাধ্যমে আজকের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এরপর আইইবি মিলনায়তনে আয়োজিত হয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশন। এর সভাপতিত্ব করেন আইইবি, ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মেসবাহুর রহমান টুটুল। উদ্বোধনী অধিবেশন সঞ্চালনা করেন আইইবি, ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশীদ চৌধুরী মাসুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রথমেই স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করেন ৩০ লক্ষ শহীদ এবং সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা বোনকে যাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। আরও স্মরন করেন জাতির সূর্য সন্তানদের যারা বিজয়ের প্রাক্কালে প্রান হারিয়েছিলেন পাকিস্তানের দালাদের হাতে।
এসময় তিনি বলেন, “ আজকের অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থাপিত স্টলগুলো পরিদর্শন করে আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি যে আমাদের ষ্টীল শিল্প অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা জানি যে আমাদের দেশে মোট জনসংখ্যার তুলনায় ভুমি অনেক কম তাই উঁচু ভবন নির্মাণের কোন বিকল্প নেই। আর ষ্টীল কাঠামো ব্যবহার করে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবী। আমি নিজেও ষ্টীল কাঠামো ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করি। পূর্বাচলে আমরা যে ৩০ থেকে ৫০ তলা ভবনগুলো নির্মাণ করছি সেখানেও ষ্টীল কাঠামো ব্যবহারের চিন্তা চলছে “।
এরপর বক্তব্য রাখেন আজকের সেমিনারের অন্যতম উদ্যোক্তা ষ্টীল বিল্ডিং ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশন(এসবিএমএ) এর সভাপতি প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তিনি বলেন, আরসিসি ভবন নির্মাণ করতে যেখানে দেড় থেকে ২ বছর সময় লাগে সেখানে মাত্র ৬ মাসেই ষ্টীল কাঠামো ব্যবহার করে একটি সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা সম্ভব। তবুও আমাদের দেশে ষ্টীল কাঠামো ব্যবহারে মানুষের অনীহার অন্যতম কারন এ বিষয়ে তথ্যের অপ্রতুলতা। আমাদের আজকের সেমিনারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ষ্টীল কাঠামো ব্যবহারের সুবিধা সম্বন্ধে সকলকে অবহিত করা “।
“ সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠী হচ্ছে সেদেশের মাথাপিছু ষ্টীল ব্যবহারের পরিমাণ। উন্নত দেশে মাথাপিছু ষ্টীল ব্যবহারের হার যেখানে ৪০০ কেজি সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ২৫ কেজি। তাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত হবার যে রূপকল্প তা বাস্তবায়নে ষ্টীলের ব্যবহার বৃদ্ধির বিকল্প নেই “।

এরপর বক্তব্য রাখেন উদ্বোধনী অধিবেশনের সভাপতি আইইবি, ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মেসবাহুর রহমান টুটুল। তিনি বলেন, আইইবির মূল লক্ষ্য প্রকৌশল পেশার উন্নয়ন একই সাথে প্রকৌশলীদের উন্নয়ন।
তিনি উল্লেখ করেন, এসডিজি ভৌত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ এর মধ্যে আমাদের উন্নত দেশে পরিনত হতে হলে আমাদের অবশ্যই ষ্টীল কাঠামোর ভবন নির্মাণ শুরু করতে হবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন আইইবি ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আতাউল মাহমুদ, প্রকৌশলী কাজী খাইরুল বাশারসহ আরও অনেকে।
বেলা ২.৩০ টায় শুরু হয় সেমিনারের টেকনিক্যাল সেশন: Steel Structures: Prospects and Opportunities in Bangladesh । এই সেশনে কি নোট উপস্থাপনা করেন মেম্বার অব দ্য ইন্সটিটিউশন অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স, ইউকে এর চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার ডেভিড পিটারকিন কেটেলওয়েল, ড. ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম, ডিনসল এএস স্ট্যাভাঞ্জার, টেকনিক্যাল সেফটি কনসালটেন্ট, নরওয়ে এবং সেলামি গুরেল, তুরস্ক।
প্রথমেই ষ্টীল স্ট্রাকচার এর ইতিহাস এবং হাইরাইজ বিল্ডিং বিষয়ে কি নোট উপস্থাপনা করেন যুক্তরাজ্যের ডেভিড পিটারকিন কেটেলওয়েল। তিনি স্ট্যান্ডার্ড মেথড অব স্ট্রাকচারাল ষ্টীল কন্সট্রাকশন, ভবন নির্মাণে স্ট্রাকচারাল ষ্টীলের ইতিহাস এবং ভবন নির্মাণে স্ট্রাকচারাল ষ্টীল না রিয়েনফোর্সড কংক্রিট কোনটির ব্যবহার যথোপযুক্ত সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এরপর ষ্টীল স্ট্রাকচার ডিজাইনে আগুন নির্বাপণ ব্যবস্থা কিরূপ হবে সে বিষয়ে কি নোট উপস্থাপনা করেন ড. ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম, ডিনসল এএস স্ট্যাভাঞ্জার, টেকনিক্যাল সেফটি কনসালটেন্ট, নরওয়ে ।
ষ্টীল ব্রিজ এবং মেগা স্ট্রাকচার বিষয়ে কি নোট উপস্থাপনা করেন তুরস্কের বিশ্বখ্যাত প্রকৌশলী সেলামী গুরেল।
এরপর বক্তব্য রাখেন এই সেশনের প্রধান অতিথি এফবিসিসিআইয়ের মাননীয় প্রেসিডেন্ট মতলুব আহমেদ। তিনি বলেন, “ আজকের প্রবন্ধ উপস্থাপকদের বক্তব্য শুনে আমি মুগ্ধ। ষ্টীল স্ট্রাকচার ব্যবহার করে কত অসাধারণ ভবন তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মাণ করেছেন। আমি আপনাদের(প্রকৌশলীদের) উদ্দেশ্য করে বলতে চাই আপনাদেরই দায়িত্ব ষ্টীল স্ট্রাকচার ব্যবহার করে আমাদের দেশে এরকম বৈচিত্র্যময় এবং সুন্দর স্থাপনা নির্মাণ করা। পাশাপাশি আমি ষ্টীল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এফবিসিসিআই ষ্টীল রপ্তানিতে আপনাদের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। আপনাদের অনেক দিনের দাবী কম শুল্কে ষ্টীল সারা বিশ্বে রপ্তানি করা। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে,এফবিসিসিআআই এবং রাজস্ব উন্নয়ন বোর্ড সম্মিলিতভাবে এ ব্যাপারে কাজ করছে“।
সন্ধ্যা ৬ টায় শুরু হয় আজকের দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী পর্ব মহান বিজয় দিবসের আলোচনা, সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি।তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “ সভ্যতার শুরু থেকেই ব্যবহার হচ্ছে ষ্টীল। উন্নত দেশে ষ্টীলের ব্যবহার অনেক বেশি হলেও বাংলাদেশে এখনও ষ্টীল কাঠামো ব্যবহার অনেক কম। কিন্তু ধীরে হলেও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। সুউচ্চ ভবন নির্মাণে আমাদের দেশে এখন ষ্টীল ব্যবহার হচ্ছে”।
এসময় তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা বোনকে। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই আমরা উন্নত দেশে পরিনত হতাম কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে তিনি ও তার পরিবার নিহত হন। তবে উন্নয়নের চাকা যেখানে থেমে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকেই উন্নয়নের চাকা দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ হাজার মেগাওয়াট কিন্তু বর্তমানে তা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে তিনি আগাচ্ছেন যে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে সারা বিশ্বের অর্থনীতিবিদরা স্বীকার করছেন যে এর আগেই বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হবে”।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান। স্বাধীনতার স্বপক্ষের ব্যক্তিদের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ দেয়ায় তিনি আজকের প্রধান অতিথিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যারা নস্যাৎ করতে চায় তারা একাধিকবার বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই ১৬ কোটি বাঙালির দোয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আছে।

আজকের সমাপনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সাবেক খাদ্যমন্ত্রি এবং জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, এমপি বলেন, বাঙালি জাতি অনেক ভাগ্যবান, আমরা বঙ্গবন্ধুর মত একজন আদর্শবান এবং ত্যাগী নেতাকে পেয়েছি যার নেতৃত্বেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি ১৯৭৫ সালে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
তারা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রগতির চাকা থামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। ধাবিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলার দিকে।
এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় আজকের দিনব্যাপী আয়োজনের।


ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর