আবাসন খাতের মন্দা দীর্ঘায়িত হচ্ছে
আবাসন খাতের মন্দা দীর্ঘায়িত হচ্ছে
২০১৬-১২-০৬ ০৫:৫৪:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+


ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু হওয়া আবাসন খাতের মন্দা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। আয়কর ও দুদকের ঝামেলা কাটলেও ব্যাংকের অর্থায়ন জটিলতার কারণে মন্দা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পৃথক তহবিল গঠনের আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া পায়নি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে অন্য ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। যার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কর্মসংস্থানে এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত পশ্চাৎপদ শিল্প যেমন- সিমেন্ট, স্টিল, স্যানিটারি, সিরামিকসহ অন্যান্য শিল্পে। অন্যদিকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি-ফ্ল্যাটের সরকারি দর পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ। সম্প্রতি দুদক থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অসংখ্য অবিক্রীত রেডিমেড ফ্ল্যাট রয়েছে। ব্যাংকগুলো অর্থায়নে অসহযোগিতা করায় মন্দা কাটছে না। ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আবাসন খাতে ঋণ দিতে বিধিনিষেধ রয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ নেই। এই গ্যাঁড়াকলে অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কিছু ব্যাংক ঋণ দিলেও উচ্চ সুদ ও মেয়াদকাল কম। এ কারণে ক্রেতারা ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তাই আবাসন খাতের তিন হাজারের বেশি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান কঠিন সময় পার করছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০টি প্রতিষ্ঠান রিহ্যাবের সদস্য। এরা নতুন প্রকল্প নিচ্ছে না। শুধু তাই নয়, এ খাতের সঙ্গে জড়িত পশ্চাৎপদ শিল্প ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আবাসন খাতের সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। পুনরায় এ খাতকে চাঙ্গা করতে একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন বলেন, বর্তমানে আবাসন খাতের চলমান মন্দার কারণ একটিই। সেটি হচ্ছে ব্যাংক ঋণের অপর্যাপ্ততা। ব্যাংকিং সুব্যবস্থা তৈরি না হলে মন্দা কাটবে না। এ খাত চাঙ্গা করতে হলে ২০ থেকে ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পাশাপাশি সুদ হার আরও কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে ক্রেতাদের তথ্য চেয়ে দুদক থেকে প্রায়ই চিঠি দেয়া হতো। এ নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। আলোচনার পর সেটির অবসান হয়েছে। এদিকে জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় স্বচ্ছতা আনতে এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে জমি-ফ্ল্যাটের সরকারি দর বাড়াতে দুদক থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে দুদক কার্যালয়ে সংস্থার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের প্রতিনিধিরা। সভায় সরকারি দর বৃদ্ধিতে ৬টি সুপারিশ করা হয়েছে।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ঢাকায় জমির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে জেলা প্রশাসন, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত বিভাগ, রেজিস্ট্রেশন বিভাগ, পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, এনএসআই’র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি দর নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় মৌজার পরিমাণ বড় সেসব ক্ষেত্রে মৌজাকে জমির ব্যবহারগত ও অবস্থানগত দিক বিবেচনা করে একাধিক ক্লাস্টারে ভাগ করে বাজারমূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরের জেলার জন্য বর্তমান বাজার মূল্য নির্ধারণ কমিটির পরিবর্তে আগের মতো জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে গণপূর্ত বিভাগ, রেজিস্ট্রেশন বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের প্রতিনিধি ও এনজিও’র মাধ্যমে নতুন কমিটির সুপারিশ করা হয়েছে। এসব কমিটি লিখিত দলিল মূল্যের পরিবর্তে বাজার মূল্য সংগ্রহ করবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী দেশের প্রচলিত আইন, পদ্ধতি ও অকৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া কালো টাকা দিয়ে জমি-ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে শুধু সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বারবার এ ধরনের সুযোগ দেয়া হলে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর