ফাঁসির ২১ বছর পর নির্দোষ
ফাঁসির ২১ বছর পর নির্দোষ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১২-০৪ ০৫:৩৮:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


২০ বছরের এক তরুণ। তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়েছিল চীনা সরকার৷ ১৯৯৫ সালে খুন ও ধর্ষণের দায়ে প্রাণদণ্ড হয়েছিল তরুণের।

কিন্তু সেই বিচার ভুল ছিল৷ ২১ বছর পর সেই ভুল স্বীকার করল চীনের শীর্ষ আদালত৷ খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন ওই তরুণ৷ তার বাবা বললেন, ছেলে এ বার কবরে শান্তিতে ঘুমোবে।

কমিউনিস্ট চীনের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ বহুকালের৷ তাদের বক্তব্য, সে দেশে অভিযুক্তরা নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থার সুবিধা পান না৷ তাই প্রতি বছর হাজারো মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ড্রাগনের দেশে৷ এই অভিযোগের আর এক জ্বলন্ত প্রমাণ চীনা শীর্ষ আদালতের শুক্রবারের রায়।

কারখানার শ্রমিক সুবিনের বাড়ি ছিল হেবেই প্রদেশে৷ তার বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালের আগস্টে সিজিয়াঝুয়াংয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অস্বীকার করলেও চীনা আদালত সুবিনকে দোষী সাব্যস্ত করে৷ ১৯৯৫ সালে তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷ সে সময় সুবিনের অভিভাবকেরা নিজের ছেলেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও তা গুরুত্ব পায়নি।

পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয় ২০০৫ -এ৷ ওয়াং সুজিন নামে এক ব্যক্তি পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন কবুল করে, ওই ধর্ষণ ও খুন তার কাজ৷ সুবিনের মা ঝাং হুয়ানঝি আইনি লড়াই শুরু করেন৷ ফের দাবি তোলেন, তার ছেলে নিরপরাধ৷ ওয়াং সুজিনের স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তা ফের খতিয়ে দেখা হোক৷ ৭৩ বছরের বৃদ্ধা চীনের সুপ্রিম কোর্টে এই মর্মে আবেদন জানান।

২০১৪ সালে এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়৷ শুক্রবার এই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় সুবিনকে৷ শুধু মুক্তি দেয়নি, আদালত বলেছে , প্রমাণ ছাড়াই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছিল৷ পুলিশ ও আইনজীবীদের নিন্দা করে আদালত।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর