এক বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসা
এক বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসা
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১১-২৬ ০৬:৫৩:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


এক বছরেরও বেশি সময় আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তারপরও পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। ডাক্তার, রোগী সবাই জীবন নিয়ে আতঙ্কে থাকলেও ভবন নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালের দিকে সরকার জেলা শহরে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি নির্মাণ করে। পরে হাসপাতালটিকে ক্রমান্বয়ে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ বসবাস করে।

সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দুটির সামনের দুই তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২টি শিশু ওয়ার্ড, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড, নিচতলায় অফিস, ফার্মেসি, ওষুধ মজুদ করে রাখার কক্ষ, জরুরি ও বহির্বিভাগ। পিছনের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় রয়েছে অর্থপেডিক, পুরুষ ওয়ার্ড। দ্বিতীয় তলায় মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষা হল, চক্ষু ও নাক-কান গলা বিভাগ। নিচ তলায় মহিলা মেডিসিন, বক্ষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ইসিজি, রান্নাঘর, আনসার ক্যাম্প, ড্রাইভারদের থাকার ঘর।

প্রায় ৪৪ বছর আগে নির্মিত হাসপাতালের দুটি ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে ভবন দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, অফিস, ফার্মেসি, বহির্বিভাগ ও রোগীদের ওয়ার্ডের সিলিং থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেরিয়ে এসেছে রড। দেয়ালেরও একই অবস্থা, যায়গায় খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপোযোগী। সিঁড়ির ইট খসে পড়ে গেছে। রেলিং ভেঙ্গে গেছে। সেখানেই চলছে রোগীদের চিকিৎসা।

কয়েকজন ডিউটি অফিসার (ডাক্তার) এবং সেবিকা (নার্স) বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ভয় ও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই আমাদের থাকতে হয় এখানে।’ বেশ কয়েকবার বিভিন্ন স্থান থেকে সিলিং থেকে পলেস্তরার বড় বড় খণ্ড ভেঙ্গে পড়েছে। তবে ভাগ্য ভালো বলে রোগী, ডাক্তার এবং সেবিকাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বিভিন্ন সময় অনেকে আহত হয়েছেন অনেকে। তবে তা বড় নয় বলে তারা জানান।

শিশু ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর মা ছালমা খাতুন বলেন, ‘সিলিংয়ের দিকে তাকাতেও ভয় লাড়ে। কখন যে ভেঙ্গে পড়ে।’

আসলাম এসেছেন সন্তানের চিকিৎসা করতে। তিনি বলেন, ‘ছাদ ভেঙে কখন যে শিশুর মৃত্যু হয়, সব সময় এই আশঙ্কাতেই থাকি।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুধু রোগী বা রোগীর অভিভাবক নয়। ডাক্তার, সেবিকা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই ঝুঁকিতে আছেন।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত জানানো হলে গত এক বছর আগে গণপূর্ত বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকরাও হাসপাতালের বেহাল দশা দেখে আঁতকে ওঠেন।

জানতে চাইলে গণপুর্ত বিভাগ নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজালাল মজুমদার হাসপাতালটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার কথা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কবে নাগাদ পুরাতন ভবন ভাঙার দরপত্র আহ্বান করা হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর