রাখাইন রাজ্যে বর্তমান অবস্থা নরকের মত: রোহিঙ্গা নেতা
রাখাইন রাজ্যে বর্তমান অবস্থা নরকের মত: রোহিঙ্গা নেতা
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১১-২১ ০৪:০১:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বর্তমান অবস্থাকে নরকের সঙ্গে তুলনা করেছেন আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম। তিনি জানান, সেখানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ৩৫০ জন নিহত হয়েছেন। জীবন বাঁচাতে পলায়নপর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান।

লন্ডন থেকে নূরুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, সেখানে এমন অত্যাচার চলছে যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। অক্টোবরের ৯ তারিখ থেকে তাদের হিসেবে কমপক্ষে ৩৫০ জন নিহত হয়েছেন।

নূরুল ইসলামের ভাষায়, ‘বহু নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষ।’ তবে মিয়ানমার সরকার কোনও সাংবাদিককেই রাখাইন রাজ্যে যেতে দিচ্ছে না। ফলে নিরপেক্ষ কোনও সূত্র থেকে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তাদের অভিযানে ৬৯ জন নিহত হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নূরুল ইসলাম সেনাবাহিনীকে মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে বলেন, এটা কোনওভাবেই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক কিংবা সাংবাদিকদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তার ভিত্তিতে তারা যেসব খবর পাচ্ছেন সেই চিত্রটা আরও অনেক বেশি ভয়াবহ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উত্তর আরাকান এবং মংডু টাউনশীপে।

নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন পাড়ার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তারা তল্লাশি চালাচ্ছে। লোকজনকে গুলি করে মেরে ফেলছে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে লোকজন যখন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; তখন হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গুলিবর্ষণ করে তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যেখানে গিয়ে লুকাচ্ছে সেখানে, রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পথেঘাটে, খালে নদীতে তাদেরকে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে।’

আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, লোকজন নৌকায় করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চাইলে তাদের নৌকার ওপর গুলি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করায় তারা উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, যাদের নিরাপত্তা নেই তাদেরকে বাংলাদেশের আশ্রয় দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, ‘আমাদের ওপর যে নির্যাতন চলছে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। বাংলাদেশের উচিত তাদের জন্যে সীমান্ত খুলে দেওয়া। না হলে এই লোকগুলো যাবে কোথায়?’

নূরুল ইসলাম বলেন, ‘মনে করুন, আপনার ঘরে যদি আগুন জ্বলে তখন প্রতিবেশীর বাড়িতে আপনার আশ্রয় নিতে হবে। এজন্যে আপনাকে তো কোন অনুমতি নিতে হবে না।’

মিয়ানমার সরকারের কাছে তিনি আবেদন জানান, বেসামরিক লোকজনের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযান এখনই বন্ধ করতে, সাংবাদিকদের আক্রান্ত এলাকায় যাওয়ার অনুমতি দিতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ঘটনা বন্ধ করতে।

বাংলাদেশে অনেকের আশঙ্কা, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গ্রুপের সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ রকম কোনও ভয়ের কারণ নেই।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের এই লোকগুলোকে আশ্রয় দেওয়া উচিত শুধুমাত্র মানবিক কারণেই।’

রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী বলে মিয়ানমার সরকার অপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব নিয়েই এখন টানাটানির সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর