সাইবার হয়রানি নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে
সাইবার হয়রানি নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১১-১৬ ০৯:০৩:২০
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী চার বছর ধরে ফেসবুক ব্যবহার করেন। কয়েক মাস আগে নিজের নাম ও ছবিযুক্ত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তাঁর নজরে আসে। একই নাম ও তথ্য ব্যবহার করে সেই অ্যাকাউন্ট দিয়ে ছাত্রীটির নামে ছড়ানো হতে থাকে বিভিন্ন আপত্তিকর পোস্ট ও ছবি। ভুয়া অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করতে না পেরে এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি অভিযোগ করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) গ্রাহক অভিযোগকেন্দ্রে।

অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করতে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওই ছাত্রীকে কয়েকটি প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন। এরপর ওই ভুয়া অ্যাকাউন্টটি এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। ওপরের উদাহরণটির মতো ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরিসহ গোপনে বা অজান্তে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো মোট ১ হাজার ১০৩টি অভিযোগ বিটিআরসির কাছে গত ছয় মাসে জমা পড়েছে। চলতি বছরের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিটিআরসির গ্রাহক অভিযোগ তথ্যভান্ডারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বিটিআরসির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৭ হাজার ৫৬১টি অভিযোগ গত ছয় মাসে জমা পড়েছে। এসব অভিযোগকে মোট ১১ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো ভয়েস ও ডেটা সেবার মান, সাইবার অপরাধ, ডেটার ব্যবহার, ট্যারিফ বা সেবামূল্য, ইন্টারনেটের গতি, সিম বন্ধ, বিরক্তিকর খুদে বার্তা, মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক লেনদেন, নম্বর পরিবর্তন, ভ্যালু অ্যাডেড সেবা ও বিবিধ সেবা।
সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ১৮৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে সেবার মান বা কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) বিষয়ে। কল ড্রপ, নেটওয়ার্কের আওতা ও মান, ফোনের সংযোগ পেতে সময়ের মতো বিষয়গুলো সেবার মান শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও সেবার মান বিষয়ে মুঠোফোন অপারেটরদের কাছে গ্রাহকের যত অভিযোগ আসে, বিটিআরসিতে জমা পড়া অভিযোগ সেই তুলনায় অনেক কম।

সাইবার অপরাধভিত্তিক অভিযোগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। মে মাসে বিটিআরসিতে সাইবার অপরাধকেন্দ্রিক অভিযোগ জমা পড়েছিল ২২টি। সেটি গত অক্টোবরে ১৭ গুণ বেড়ে ৩৮৬তে এসে দাঁড়িয়েছে।
জানতে চাইলে বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, সাইবার অপরাধ বন্ধে গ্রাহকের অভিযোগ অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক অপরাধ বন্ধে বিটিআরসির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে ইন্টারনেট সেফটি সলিউশন (আইএসএস) যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক অপরাধ বন্ধে গ্রাহকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
টেলিযোগাযোগভিত্তিক সেবার মান নিয়ে গ্রাহকের মতামত জানতে ২২ নভেম্বর একটি গণশুনানির আয়োজন করেছে বিটিআরসি। এতে গ্রাহকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মুঠোফোন অপারেটরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। গণশুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে www.btrc.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

যেভাবে অভিযোগ জানাবেন: বিটিআরসিতে বেশ কয়েকটি উপায়ে অভিযোগ করতে পারেন একজন গ্রাহক। এর মধ্যে একটি হলো ২৮৭২ নম্বরের শর্টকোড। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া ০১৫৫৫১২১১২১ নম্বরের মাধ্যমে সরাসরি সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অভিযোগ করা যায়। এ ছাড়া ডাক, ই-মেইল, ওয়েবসাইটভিত্তিক ওয়েব বক্সের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করতে পারেন। বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলো সমাধানে এরপর সেগুলো বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে মোট ৪ হাজার ৫০৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৯৫টি গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর