ওয়াইফাই বাস সেবা: স্বস্তির চেয়ে ভোগান্তি বেশি
ওয়াইফাই বাস সেবা: স্বস্তির চেয়ে ভোগান্তি বেশি
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১১-১৩ ১৮:৪২:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো বিআরটিসি ওয়াইফাই বাস চালু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প। পাইলটভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে মতিঝিল-উত্তরা রুটের ১০টি বাসে এই সুবিধা চালু করা হয়। পরবর্তীতে আরও ৫টি বাসে ওয়াইফাই চালু করা হলেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে ব্যবহারকারীদের এই সেবাটি ভোগান্তিই বাড়িয়েছে।

অতি সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসি বাস কাউন্টারে গিয়ে ৫টি বাসে পরীক্ষা করেও ওয়াইফাই সংযোগ দেখতে পাওয়া যায়নি। একজন বাস চালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব বাসে ওয়াইফাই নেই। ১৫টি বাসে আছে। সবগুলোতে দুটি করে রাউটার আছে। ৪-৫টা বাসে ওয়াইফাই চালু আছে। অন্যগুলো কাজ করে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গাড়ি চালক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা একেকজন ড্রাইভার একেকদিন ভিন্ন ভিন্ন বাস চালাই। মাঝে মাঝে একজন দুজন যাত্রী আমাদের ওয়াইফাই চালু করতে বলে। ওয়াইফাই কেমন চলে তা বলতে পারব না।’

মতিঝিলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরে দেখা পাওয়া যায় একটি ওয়াইফাই বাসের। ওই বাসেরই যাত্রী কলেজ শিক্ষার্থী অনিক আবদুল্লাহর কাছে ওয়াইফাই ব্যবহার করেছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও স্পিড (গতি) পাইনি। পরে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এটুআইয়ের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নিয়ে ওয়াইফাই বাস সার্ভিস শুরু করেছিলাম। কিন্তু বিআরটিসি পর্যায়ক্রমে সেই সেবা কাঙ্ক্ষিতমানে নিতে পারেনি। দূরপাল্লার বাসেও এই সেবা চালুর কথা ছিল, তাও হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাসে শুধু ওয়াইফাই-ই চালু করিনি। একসঙ্গে চারটি সেবা চালুর জন্য বলেছিলাম। বিআরটিসি ওয়াইফাই সেবা ছাড়া আর কিছু চালু করেনি।’

তিনি জানান, ‘অন্য তিনটি সেবা ছিল ক্লিক ম্যানেজমেন্ট (কোন গাড়ি কোথায় আছে তা দেখা), অ্যাপ (সবচেয়ে নিকটের বাসটি কোথায় আছে এবং যাত্রীর কাছে আসতে কত সময় লাগবে তা জানা) এবং পরিবহন ম্যাপ (কোন রুটে কোন বাস চলে)। একটি ছাড়া বাকি তিনটি চালু করেনি বিআরটিসি।’

নাইমুজ্জামান মুক্তা আরও বলেন, ‘আমরা বিআরটিসিকে পরিবহন ম্যাপগুলো প্রিন্ট করে দিয়েছিলাম। কথা ছিল, এগুলো বাসে রাখা থাকবে, যাত্রীদের প্রয়োজন হলে সেটি ব্যবহার করবেন। কিন্তু সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।’

বেসরকারিভাবে চালু হওয়া অন্তত দুটি বাসে ভালো ওয়াইফাই সেবা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে গতি নিয়ে অনেকে কথা বলতে চান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস চলন্ত অবস্থায় অনেক জায়গায় নেটওয়ার্ক পায় না। টাওয়ারগুলোর দূরত্বের কারণে এই সমস্যা হয়। বিশেষ করে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।

এদিকে ১৯ এপ্রিল মোবাইলফোন অপারেটর রবি দেশের ১০০টি বাস ও ১০০টি ট্যাক্সি ক্যাবে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা সুবিধা চালু করে। প্রথম পর্যায়ে দূরপাল্লার ১০০ বিলাসবহুল ও রাজধানীতে চলাচলরত বাস এবং প্রায় দেড় শতাধিক ট্যাক্সি ক্যাবে রবি ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য রুটে চলাচলরত দেশ ট্রাভেলসের ২৬টি, সেন্টমার্টিন পরিবহনের ৪টি, হানিফ পরিবহনের ১৬টি, এসবি সুপার ডিলাক্সের ২টি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বাসে (শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য) ওয়াইফাই চালু আছে।

ঢাকার আজিমপুর থেকে গাজীপুর রুটে চলাচলরত ভিওআইপি পরিবহনের ৩০টি বাসের যাত্রীরা ফ্রি ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। প্রতিটি বাসের দরজার ডান পাশে রবি ওয়াই ফাইয়ের লোগো রয়েছে যা দেখে যাত্রীরা বুঝতে পারেন এই বাসে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা রয়েছে।

ওই সময় রবি কর্তৃপক্ষ জানান, ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৫ শতাধিক জায়গায় একটি বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপন করবে রবি। প্রকল্পটির আওতায় ৫০০টি শীর্ষস্থানীয় রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও রিটেইল আউটলেট, ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১০টি পাবলিক প্লেস (বিমানবন্দর ও রেল স্টেশন) এবং ৩৫০টি বাস, ট্যাক্সি ও ট্রেনে উচ্চগতির ওয়াইফাই সেবা প্রদান করবে অপারেটরটি।

রবি কর্তৃপক্ষ জানান, ভবিষ্যতে ওয়াইফাই বাস সার্ভিস আরও বিস্তৃত করা হবে। বাসের সংখ্যা ও রুট বাড়বে।
এর আগে গত বছরের আগস্টে দূরপাল্লার বাসে যাত্রীদের জন্য ওয়াইফাই ইন্টারনেট সেবা চালু করে গ্রামীণফোন। ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-সিলেট রুটের গ্রিনলাইন পরিবহনে ওয়াইফাই ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়। দূরপাল্লার বাস যাত্রীদের ইন্টারনেট সেবায় কোনও মোবাইলফোন অপারেটরের এটিই ছিল প্রথম উদ্যোগ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর