১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৬’
১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৬’
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১১-১৩ ১৮:৩৯:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলা একাডেমি চত্বরে আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা লিটারারি ফেস্টিভ্যাল’। চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এ সাহিত্য উৎসব হবে দেশি-বিদেশি সাহিত্যিকদের মিলনমেলা। এ উৎসবে ১৮টি দেশ থেকে ৬৬ জন বিদেশি এবং দেড় শতাধিক বাংলাদেশি সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক অংশ নেবেন। এ উৎসবে দেশি-বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি সাহিত্যসহ নানা বিষয়ে সরাসরি আলোচনা-পর্যালোচনার সুযোগ থাকছে জনসাধারণের।

লিট ফেস্ট নিয়েই আজ রবিবার (১৩ নভেম্বর) আয়োজন করা হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনের। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, লিট ফেস্টের পরিচালক কাজী আনিস আমেদ, সাদাফ সায্‌, আহসান আকবর এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধি আসিফ সালেহ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাজী আনিস আহমেদ। তিনি জানান, ষষ্ঠবারের মতো করা এই আয়োজনের পরিধি অনেক বেড়েছে। এবার ১৮টি দেশের ৬৬ জন প্রতিনিধি। ১৭ নভেম্বর সকাল ৯টায় এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন নোবেল জয়ী সাহিত্যিক ভিএস নাইপলের সঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সঙ্গে থাকছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানসহ সব সহযোগী এবং দেশি-বিদেশি সাহিত্যিকরা।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বসাহিত্যে শীর্ষ পুরস্কার নোবেল, পুলিৎজার ও ম্যানবুকার প্রাপ্ত তিন-তিনজন সাহিত্যিক আসছেন। এটি লিট ফেস্টের অন্যতম বড় পাওয়া। বরাবরের মতো অন্য দেশের সাহিত্যের চেয়ে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলা সাহিত্য।

সম্প্রতি প্রয়াত কথা সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের কথা উল্লেখ করে কাজী আনিস বলেন, ‘এই মহতী লেখককে স্মরণ করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে এই আয়োজনে। লিট ফেস্টে তার লেখা উপন্যাস ‘নীল দংশন’ এর একটি অংশ ইংরেজিতে মঞ্চায়িত হবে। থাকছে তার জীবন নিয়ে বিশেষ আলোচনা। এছাড়া খ্যাতিমান লেখক ফকরুল আলমের অনুদিত মীর মোশাররফ হোসেনের খ্যাতনামা উপন্যাস ‘বিষাদ সিন্ধু’ এর প্রকাশনা উৎসব হবে এই আয়োজনেই।’

আরও একটি বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এ বছর থেকে জেমকন সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে এই ঢাকা লিট ফেস্টের মঞ্চে। কাজী আনিস আহমেদ বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই সাহিত্য পুরস্কার দিয়ে আসছে জেমকন কর্তৃপক্ষ।

এবারই প্রথমবারের মতো লিট ফেস্টের অনেক আলোচনার সেশন অনুবাদ করা হবে সরাসরি। যাতে করে বিদেশিরাও বাংলা সেশন শুনতে ও বুঝতে পারেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার খাতিরে বড় ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়টি সবাইকে মাথায় রাখার অনুরোধ করেন তিনি। এছাড়া পৃষ্ঠপোষক ও স্পন্সরদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কাজী আনিস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রীর আগ্রহ এবং সার্বিক সহযোগিতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।

উৎসবের আরেক পরিচালক আহসান আকবর বলেন, কোনও উৎসবে এতজন পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের আগমন বিরল। শুধু নোবেল, বুকার বা পুলিৎজার নয় আরও অনেক পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের সম্মেলন ঘটতে যাচ্ছে এখানে।

তিনি জানান, ভিএস নাইপল ভীষণ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় আসার ব্যাপারে। তিনি অনেক পড়েছেন ঢাকা নিয়ে। থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় লেখক প্রাবদা ইয়ুন আসছেন। তিনি দেশটির বেস্ট সেলার লেখক। টিম কুক আসছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। তার লেখা থেকে বেশ কয়েকটি ডকুমেন্টারি হয়েছে।

নাইপলের ওপর বিবিসির একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি ‘স্ট্র্যাঞ্জ লাক অব নাইপল’ দেখানো হবে এই উৎসবের প্রথম দিনে।

এবারের আয়োজনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা থাকছেন অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে। জাস্টিন রোলেন বিবিসির সাউথ এশিয়ার বুরো চিফ, এনডিটিভির সেলিব্রেটি সাংবাদিক বারখা দত্ত ছাড়াও অনেক সাংবাদিক আলোকিত করবেন লিট ফেস্টের মঞ্চ।

উৎসবের পরিচালক সাদাফ সায্‌ বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্য, ঐতিহ্য, জগতের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। বিশেষ করে পালা, জারি গান, বেহুলা লখিন্দরের জারিসহ উৎসবের অন্যতম সহযোগী ব্র্যাকের সংস্কৃতি বিভাগ গ্রাম পর্যায়ে যেসব কাজ করছে সেগুলোও তুলে ধরা হবে।

সাদাফ উল্লেখ করেন, দুটো বিশেষ ওয়ার্কশপ হচ্ছে তরুণদের জন্য। রিচার্ড পিয়ার এডিটিং ওয়ার্কশপ করাবেন। ওয়ার্ল্ড মিউজিক ম্যাগাজিনের এডিটর সায়মন আর্ট জার্নালিজমের ওপর একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবেন।



তিনি আরও জানান, কবিতাকে ভীষণ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে লিট ফেস্টে। এজন্যই ২০১৪ সালের পুলিৎজার বিজয়ী বিজয় শেষাদ্রী আসছেন এই ফেস্টে। তিনদিনের এই আয়োজনে ৯০টির বেশি সেশন রয়েছে।

শুধু শিল্প সাহিত্য নয়, জেনেটিকস সায়েন্স,নিওরো সায়েন্স অ্যান্ড আর্কিটেকচারের মতো সায়েন্টিফিক বিষয় নিয়েও বেশ কয়েকটি সেশন রয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, এত বড় উৎসব সত্যিই আমাকে আপ্লুত করেছে। বাংলা একাডেমি বরাবরই দেশকে এবং দেশের সাহিত্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছে। তিনি লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এই সংস্কৃতির আদান প্রদানের যে প্রচেষ্টা হচ্ছে সেটি সত্যিই অতুলনীয়। লিট ফেস্ট বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্য এবং ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য চর্চাকে ত্বরান্বিত করেছে বলেই মনে করছেন তিনি। সে সময় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে অনুবাদকের সংখ্যা গুটিকয়েক। আশা করছেন, সাহিত্যের এই শাখাকে উন্নীত করার জন্য এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতই হবে।

প্লাটিনাম স্পন্সর ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আসিফ সালেহ ধন্যবাদ জানান লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষকে। তিনি বলেন, ব্র্যাকের যুক্ত হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে আগামী ৫ বছরে ব্র্যাকের উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে এ ধরনের উৎসব ভীষণরকম সাদৃশ্যপূর্ণ। ব্র্যাকের আট হাজার গ্রন্থাগারসহ সংস্কৃতি বিষয়ক নানা উদ্যোগ রয়েছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে এসব আয়োজনের বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

তিনদিনের এ উৎসব প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য মুখর থাকবে বিভিন্ন আয়োজনে।

এটি উল্লেখ না করলেই নয় যে,২০১৬ সালের ম্যান বুকার পুরস্কার বিজয়ী ও ২০১৪ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রাইজ ফর লিটারেচার ইভ উইল্ড জয়ী ডেবোরাহ স্মিথ, উত্তর কোরিয়ার লেখক হাইয়েনসিও লিসহ নেপাল, ভুটানসহ অনেক দেশের সাহিত্যিকরা আসছেন লিট ফেস্টের আসর মাতাতে।

এছাড়া দর্শনার্থী ও সাহিত্যপ্রেমী থেকে শুরু করে সকল অঙ্গনের মানুষের জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজনে অংশ নিতে কেবল করতে হবে একটি রেজিস্ট্রেশন মাত্র। যেটি নিশ্চিত করবে অংশগ্রহণকারীর পরিচয়। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পাওয়া ই-টিকেটটি ব্যবহৃত হবে আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর প্রবেশপত্র হিসেবে। তবে সবার সুবিধার্থে ই-টিকেটটি প্রিন্ট বা ইলেকট্রোনিক ডিভাইসে বহন গ্রহণযোগ্য হবে। রেজিস্ট্রেশন করতে ক্লিক করুন এই ঠিকানায়: http://dhakalitfest.com/?page_id=8

তবে বিশেষ এ আয়োজনে অংশ নিতে যাওয়া বিশেষ বক্তাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন নিচের ঠিকানায়, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় থেকে শুরু করে সংক্ষিপ্ত আদ্যোপান্ত। http://dhakalitfest.com

ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজিত হচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতায়। এটির টাইটেল স্পন্সর ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন ও অনলাইন নিউজ পেপার বাংলা ট্রিবিউন, প্ল্যাটিনাম স্পন্সর ব্র্যাক। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে রয়েছে যাত্রিক। কো-হোস্ট হিসেবে রয়েছে বাংলা একাডেমি। এছাড়াও গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে, এনার্জিস, পূর্ণভা। গোল্ড পার্টনার হিসেবে থাকছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে, ক্রিস্টোফারসন রব অ্যান্ড কোম্পানি ও ইউল্যাব। এছাড়া আরও পার্টনার হিসেবে রয়েছে বুকওয়ার্ম, সিকিউরেক্স, বেঙ্গল ইন্সটিটিউট আমরা, ইএমকে সেন্টার ইত্যাদি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিল্প সাহিত্য এর অারো খবর