বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হতে যাচ্ছেন এস এম মনিরুজ্জামান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হতে যাচ্ছেন এস এম মনিরুজ্জামান
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১১-০৯ ০৪:২৩:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন এস এম মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই তিনি এই পদে যোগ দেবেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে মনিরুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। খুব শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে বর্তমানে দুজন ডেপুটি গভর্নর রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির আগ পর্যন্ত চারজন ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর মার্চ মাসে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করলে ওইদিন দুইজন ডেপুটি গভর্নরকে অপসারণ করা হয়। এরপরে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তিনজনের একটি প্যানেল তৈরি করে। কিন্তু প্যানেলের দুজনের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক তদন্ত শুরু করলে প্যানেলটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
পরে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি আবার পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে পাঁচজনের একটি প্যানেল তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ডেপুটি গভর্নর পদে এস এম মনিরুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
এ প্রসঙ্গে সার্চ কমিটির সদস্য ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দেওয়ার জন্য যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটি গত সেপ্টেম্বর মাসে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ে হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেপুটি গভর্নর পদের জন্য ১৭ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে থেকে ১৬ জন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যারা সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন তাদের ভেতর থেকে আরও ছোট ও চূড়ান্ত তালিকা করে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। চূড়ান্ত এই তালিকায় কতজনের নাম যাবে- তা এখনও নির্ধারণ হয়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করে সুপারিশ পাঠানো হবে। আশা করা যায়, চলতি মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশের পর থেকে ডেপুটি গভর্নরের দুটি পদ খালি রয়েছে। এর আগে সার্চ কমিটির সুপারিশ করা তিনজনের নামে গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছে। এর আগে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গত মার্চের ১৫ তারিখ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিনে এবং একই ইস্যুতে দুজন ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানার চুক্তি বাতিল করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর ২৪ মার্চ ড. খলীকুজ্জমানকে প্রধান করে সার্চ কমিটি গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ কমিটি ২৭ মার্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে। পরে আবেদনকারী অর্ধশতাধিক প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এতে দুই ধাপে ১৯ জন মৌখিক পরীক্ষা দেন। তাদের মধ্যে তিনজনের নাম সুপারিশ করে কমিটি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগের কারণে এই সুপারিশ বাতিল করা হয়।
পরে দ্বিতীয় দফায় গত ২১ জুলাই কিছু শর্ত শিথিল করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। যেখানে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১০ আগস্ট। এ সময় মোট ৩১ জন আবেদন করলে সেখান থেকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১৭ জনকে ডাকা হয়। এই তালিকায় রয়েছেন বাতিল হওয়া প্যানেলের এসএম মনিরুজ্জামান ও মো. আবদুর রহিম।
উল্লেখ্য, ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কেএম মুর্শিদ, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রিজওয়ানুল হুদা।
সোমবার যে সব প্রার্থী স্বাক্ষাতকারে অংশগ্রহণ নেন, তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত, মো. সাইফুল ইসলাম, আহমেদ জামাল, ম. মাহফুজুর রহমান (পিআরএল), এস এম মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী, মো. হুমায়ূন কবীর (পিআরএল), শুভংকর সাহা, বিষনু পদ সাহা, কাজী নাসির আহমেদ (পিআরএল), মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জোদ্দার, মো. আব্দুর রহিম। এছাড়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ডিএমডি মো. আফজালুল বাশার (পিআরএল), সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. খোরশেদ হোসাইন ও সাবেরা আখতারী জামাল এবং সিটি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি বদরুদ্দোজা চৌধুরী। শুধু ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি সাইদুল হাসান অনুপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ লোপাটের ঘটনায় গত ১৫ মার্চ ড. আতিউর রহমান গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওইদিনই সরকার ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে মো. আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে অব্যাহতি দেয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর