সোমবার সকালে বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় নাডা
সোমবার সকালে বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় নাডা
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১১-০৭ ০৩:১১:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+


ঘূর্ণিঝড় নাডা’র প্রভাবে সুন্দরবনসহ উপকূলজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। খুলনা অঞ্ল ও সুন্দরবনের ওপর দিয়ে থেমে-থেমে বইছে ঝড়ো হাওয়া। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্মচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় শুক্রবার সন্ধ্য থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকশ ফিসিং ট্রলার সুন্দরবনের ছোট-ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। খুলনা আবহাওয়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় সর্বমেষ খবর পর্যন্ত ঝড়টি মংলা বন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পায়রা বন্দর থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি সোমবার সকাল নাগাদ বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, এর প্রভাবে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৮ কিলোমিটার। যা ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় মংলা বন্দরসহ সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২ পর্যন্ত খুলনায় ৫৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল ১৮ মিলিমিটার।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বন্দরে অবস্থানরত সব জাহাজ ও কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরে একটি কট্রোল রুম খুলে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

আবহওয়া বিভাগ শনিবার জানায়, গভীর নিম্মচাপটি বেলা ২টায় মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে।

মংলা বন্দর হারবার বিভাগ জানিয়েছে, বৈরী আবহওয়ার কারণে শুক্রবার রাতের পালা থেকে মংলা বন্দর ও আউটার অ্যংকরেজে অবস্থানরত ১২টি পণ্যবোঝাই জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য দূর্যোগ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার সকাল থেকেই খুলনা অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মংলা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, একটি কন্ট্রোল রুম খুলে সার্বিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে মনিটরিং করা হচ্ছে। বিপদ সংকেত বাড়লেই লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হবে।

এদিকে ৪ নম্বর সংকেত জারির পর সাগর ও সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে-মাঝিদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে নিরাপদে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া কার্যালয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা সুন্দরবনের দুবলার চরসহ আশপাশের নদী-খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপ।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এই পরিস্থিতিতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সুন্দরবনে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব ইকো ট্যুরিস্টদের লোকালয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারি ও দুবলার চরের শুটকি জেলেপল্লীতে কয়েক হাজার জেলে-বহরদারদের নিরাপদে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’র প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দরুণ গত দু’দিন ধরে মংলা বন্দরে অবস্থানরত জাহাজে পণ্য বোঝাই খালাস বন্ধ হয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে মংলা বন্দরে অবস্থানরত সার, ক্লিংকার ও স্লাগবাহী জাহাজের পণ্যবোঝাই, খালাস ও পরিবহন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বোল্ডার স্টোনসহ অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজের কাজও।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর