নাসিরনগরে মন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই হিন্দুদের ওপর ফের হামলা!
নাসিরনগরে মন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই হিন্দুদের ওপর ফের হামলা!
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১১-০৪ ২০:১৫:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+


গত ৩০ অক্টোবরের হামলার পর থেকেই নাসিরনগরের পাড়ায়-মহল্লায় পাহারার ব্যবস্থা করেছিল এলাকাবাসী। পুলিশের কিছু সদস্যও তাদের সঙ্গে ছিলেন। এলাকায় মন্ত্রী, এমপি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসছেন। তারপরও নিজেদের নিরাপত্তায় নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতেও যথারীতি পাহারায় ছিলেন তারা। ভোর ৩টার দিকে পাহারা শেষে এই দায়িত্বে নিয়োজিত লোকজন যখন কেবল বাড়িতে ফিরেছেন, ঠিক তখনই আবার নাশকতা। সবাই যখন ঘুমে অচেতন, তখনই চারটি পাড়ায় আলাদা পাঁচটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আগুনে পুড়ে যায় একটি বাড়ির দুর্গা প্রতিমা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক যখন এলাকায়, তখনই এমন ঘটনা ঘটে। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ ব্যাপারে জানার জন্য মন্ত্রীর এপিএস মিজানুর রহমানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে এলাকায় বিজিবি, র‌্যাবসহ বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করতেই ভোররাতের এই নাশকতা চালানো হয়। ৩০ অক্টোবরের হামলার ক্ষত কাটিয়ে না উঠতেই নতুন করে এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর শুক্রবার ফেসবুকে একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার দাসপাড়া, নমশুদ্র পাড়া, ঘোষপাড়া, বণিক পাড়া, ঠাকুর পাড়ায় হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় সংখ্যালঘুদের ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার পর আবারও নমশুদ্র পাড়া, বণিক পাড়া, ঠাকুর পাড়ায় ৫টি ঘর এবং দাসপাড়ার গোবর্ধন দাসের বাড়িতে থাকা ১টি দুর্গামন্দিরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এসময় এলাকাবাসী ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে কাউকেই চিনতে পারেননি তারা।

পশ্চিম পাড়ায় আগুন দেওয়া হয়েছে সাগর দাসের বাড়িতে। সাগর দাসের নাতি পলাশ দাসও পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘রাতের পালায় দায়িত্ব পালন শেষে আমরা যখন কেবল বাড়িতে ফিরেছি, তখনই আগুন দেওয়া হয়। সবাই ঘুমিয়ে থাকার কারণে হামলাকারীদের চিনতে বা ধরতে পারিনি। ’

নমশুদ্র পাড়ার ফুল কিশোর সরকার জানান, গভীর রাতে তার বাড়ির একটি গোয়াল ঘরসহ দুটি ঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বণিক পাড়ার পুতুল দেব বলেন, ‘হঠাৎ করে রাত ৩টার দিকে দেখি আমাদের বসত ঘরের পাশের ঘরে দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলছে। এ অবস্থা দেখে চিৎকার শুরু করলে এলাকার লোকজন ঝাঁপিয়ে পরে আগুন নেভায়।’ একই কথা জানান ঠাকুর পাড়ার কাকলি চক্রবর্তী।

এদিকে দাসপাড়ার গোবর্ধন দাস জানান, তার বাড়ির একমাত্র দুর্গা মন্দিরটি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার এবং এলাকার লোকজনের হৃদয় ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।’

এলাকায় মন্ত্রী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও এলাকাবাসী কঠোর সমালোচনা করে।

এদিকে ঘটনার খবর পাওয়ার পর সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও জেলা প্রশাসক মো. রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করার জন্যে ও আতঙ্ক তৈরি করতেই একটি চক্র এই কাজ করছে। একটি গোষ্ঠি তৎপর আছে। দেশব্যাপী এই কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে বারবার হামলার প্রতিবাদে নাসিরনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শুক্রবার মানববন্ধন করা হয়। পরিষদের সভাপতি আদেশ চন্দ্র দেব জানান, মানববন্ধন না করার জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি উপেক্ষা করেই তারা মানববন্ধন করেছেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর