মোনায়েম খানের দখলে থাকা ১০ কাঠা জমি উদ্ধার করেছে ডিএনসিসি
মোনায়েম খানের দখলে থাকা ১০ কাঠা জমি উদ্ধার করেছে ডিএনসিসি
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১১-০৪ ০০:৩১:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর বনানী ২৭ নম্বর সড়কে অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ১০ কাঠা জমি উদ্ধার করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কবরস্থান-সংলগ্ন এই জায়গা প্রায় ৫০ বছর ধরে অবৈধ দখলে ছিল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএনসিসি।

দেয়ালে লাগানো বাড়িটির নম্বর প্লেটে দেখা যায়, ‘বাড়িটির নাম বাগ-ই-মোনায়েম’। মালিকের নাম মৃত মো. মোনায়েম খান ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান। মোনায়েম খান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর। তিনি ১৯৭১ সালে নিহত হন। কামরুজ্জামানের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলেন, বিমানবন্দর সড়ক এবং বনানী ২৭ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে ১১০ নম্বর প্লট সংলগ্ন প্রায় ১০ কাঠা সরকারি জায়গা অবৈধ দখলে ছিল। জায়গাটি সবুজ বেষ্টনীর আওতাভুক্ত। কোনো দলিলপত্র ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে জায়গাটি অবৈধ দখলে থাকলেও কোনো সরকারি সংস্থা জমি উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

উচ্ছেদ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের জায়গা ৫০ বছর ধরে বেদখল ছিল। রাজউকের বরাদ্দের বাইরে সিটি করপোরেশনের প্রায় ১০ কাঠা জমি অবৈধ দখলে ছিল। সবুজ বেষ্টনী এই জমিতে কবরস্থান হতে পারে; সড়ক, বসার জায়গা হতে পারে।
মোনায়েম খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করায় বিতর্কিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা শুনেছি, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা সরকারিভাবে সবচেয়ে বেশি করেছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঁচ বিঘার ওপরে জমি পড়ে আছে। আমার অনুরোধ থাকবে—যদি এই জমি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এমন কারও নামে হয়, সেটি এখনই বাতিল করা হোক। তদন্ত হোক এসব সংস্থা গত ৫০ বছর ধরে কেন জমিটির ব্যাপারে মনোযোগ দেয়নি।’

বেলা আড়াইটার দিকে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। কবরস্থান-সংলগ্ন মোটর গাড়ির প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র ভেঙে ফেলা হয়। এরপর উচ্ছেদকারীরা বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত ১১০ নম্বর প্লটের সীমানা দেয়াল ভেঙে ফেলে।

এ সময় ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর আবদুর রাজ্জাক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর