র‍্যাগিং প্রথা নয় কুরুচিপূর্ণ নির্যাতন!
র‍্যাগিং প্রথা নয় কুরুচিপূর্ণ নির্যাতন!
শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন
২০১৬-১১-০২ ০৩:৪৮:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


1- শরীরের যেখানে শিক্ষকের বেতের বাড়ি পড়বে সেই যায়গা সবার আগে বেহেশতে যাবে। ছোট বেলায় এরকম একটি কথা আমাদের মধ্যে হামেশাই আলোচিত ছিল । আধুনিক চিকিৎসা এবং মনোবিজ্ঞানের কল্যাণে জানি এটি খুব বড় রকমের ভুল একটি তথ্য। শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন মানুষকে স্থায়ী পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়। তাই সভ্য সমাজে অনেকদিন আগেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের দেশেও এখন প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে শিক্ষকদের বেত হাতে ক্লাসে যাওয়া মানা।
2- আমি আন্ডার গ্রাজুয়েট শেষ করেছি "রুয়েট" থেকে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্লাস শুরু হতো পনেরো দিনের সার্ভেইং দিয়ে। সারা দিন একটানা ফিল্ড ওয়ার্ক আর রাতজেগে রিপোর্ট লেখা। তখনো MIST বা BUP প্রতিষ্ঠা হয়নি। আমাদের সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর থেকে অনেক আর্মি অফিসার পড়তে আসতেন। তাদের অনেকেই বলতেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীর পর এটা তাদের দ্বিতীয় পর্বের "পালিশ"।
3- এখন কেমন তা জানিনা; তবে আমদের সময় রুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা ছিল ভিন্ন গ্রহের প্রানী। ছাত্রদের শাসন/হয়রানিতে তাঁরা অধিকাংশই সিদ্ধহস্ত ছিলেন। তাই গ্রাজুয়েশনের একযুগ পেরোলেও তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা/ ভালোবাসা তথৈবচ!!
4- বন্ধুদের বাহিরে আমার রুয়েট অধ্যায়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ সতীর্থ ছোটভাই বা বড়ভাইরা। নির্যাতন দুরে থাক সেই প্রথম দিন থেকেই তাদের সাহায্য এবং ভালবাসা আমাকে এত গভীরে স্পর্শ করেছে যে রুয়েটের প্রতি আমার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ অনেকটাই দৃষ্টিকটু। তাঁর প্রমাণ এখন পর্যন্ত আমার টিমের অধিকাংশই রুয়েটিয়ান। আমি রুয়েটিয়ানদের সাথে সবসময়ই নিরাপদ বোধ করি ।
5- আমারা এক হালি ভাই-বোন। Sultana Rajia বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর ছোটভাই Abdullah Masum মেলবোর্নে মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের। দুই জনই পিএইচডি। সবচেয়ে ছোট বোন জান্নাতুন নাঈম প্রীতি। আমার চেয়ে আঠার বছরের ছোট।
6- গতবছর প্রীতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। সব কিছুতেই তাঁর বিপুল আগ্রহ। ভর্তির পর হলে ওঠার কিছু দিনের মাথায় নিয়মিত ফোন পেতে থাকলাম সে দারুণ অসুস্থ। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি। ডাক্তারদের পূর্ণ চেকআপের (হার্ট, নিউরোলজি ইত্যাদি) পর উদ্ঘাটিত হল তার মূল কারণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাঁপর নামক র‍্যাগিং সে সহ্য করতে পারছে না। মানসিক ডাক্তারের কাউন্সিলিং পরবর্তী ঘটনাগুলি আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন।
7- প্রীতি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাগিং এর প্রতিবাদ করেছে। এরপর তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী র‍্যাগিং কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথা, বড়-ছোটর মধ্যে সেতুবন্ধনের হাতিয়ার ইত্যাদি বলে প্রীতি বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা প্রীতিকে প্রাননাশের হুমকি সহ, কুলাংগার এবং বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ অভিধায় ভূষিত করছে/করেছে ।
8- আমার আট বছরের ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া ছোট একটি মেয়ে আছে। প্রীতির মতো আমি তারও নিরাপদ ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত। শারীরিক মানসিক নির্যাতনের ঘোর বিরোধী তা সে র‍্যাগিং বা যে নামেই হোক। প্রফেশনাল শিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ করে দেয়া নির্যাতনকারী শিক্ষকরা নয়, আমার যেমন ভালবাসার আশ্রয়স্থল সতীর্থ রুয়েটিয়ানরা তেমনি আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি জানি নির্যাতন কখনো সুস্থ জীবন ধারার অনুষঙ্গ বা সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে না।
র‍্যাগিং নামক কুরুচিপূর্ণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হিসেবেJannatun Nayeem Prity র সাথে আপনার সচেতনতা এবং সহযোগিতা কামনা করছি। আজ আমরা ভুক্তভোগী, কাল আপনি নন তাঁর নিশ্চিয়তা আছে কি?

প্রকৌঃ এমএম আসাদুল্লাহ, পুরকৌশলী এর ফেসবুক পোস্ট থেকে
https://www.facebook.com/m.m.asadullah

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফেসবুক থেকে এর অারো খবর