৭ নভেম্বর বিএনপিকে মাঠে নামতে না দেয়ার হুমকি আওয়ামী লীগের
৭ নভেম্বর বিএনপিকে মাঠে নামতে না দেয়ার হুমকি আওয়ামী লীগের
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১১-০২ ০২:৫০:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+




৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীকে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তাঁদের মতে, সিপাহিদের হত্যার দিন কোনো দলের ‘বিপ্লব দিবস’ পালনের সুযোগ নেই।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় দলটির দুই নেতা এ হুঁশিয়ারি দেন।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি মিথ্যাচার করে ৩ নভেম্বর এবং পরে ৭ নভেম্বর বিপ্লবের কথা বলে। জনতা ও সিপাহি বিপ্লব! কীসের বিপ্লব? বিপ্লব হয় আদর্শের ভিত্তিতে। তিনি অভিযোগ করেন, একটা সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং সামরিক স্বৈরাচার, তারা সেদিন মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঢাকা শহরে নামিয়েছিল। সৈনিকদের বন্দুকের নলের ভয় দেখিয়ে নামিয়েছিল। এটা কোনো বিপ্লব নয়। তারা মানুষকে বিপথে পরিচালিত করেছিল।

রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই বাংলার মাটিতে যেন আর কোনো দিন ৭ নভেম্বর বিপ্লব দিবস হিসেবে পালিত না হয়। আমরা রাজনৈতিকভাবে এটাকে মোকাবিলা করতে চাই। আমরা মনে করি না, সেদিন কোনো বিপ্লব হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য সেদিন মানুষকে বিপথে পরিচালিত করা হয়েছিল।’

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর মাঠে না নামতে বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তি এসব অশুভ শক্তিকে যেকোনো মূল্য প্রতিহত করবে। ৭ নভেম্বর কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা এই বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের জনগণ করতে দেবে না, এটা আমরা প্রত্যাশা করি।’ এই অশুভ তৎপরতাকে রুখে দেওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকালও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় মাহবুব উল আলম হানিফ ৭ নভেম্বর বিএনপিকে রুখে দেওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সেখানে তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার একটি মহান দিন। এই দিবস পালিত হবে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে বলছি, হানিফ সাহেবরা প্রতিহত করুন। আমরা জলপাইয়ের পাতা নিয়ে এগিয়ে যাব, দিবসটি পালন করবই।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটনাবহুল এই দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে বিএনপি। আর আওয়ামী লীগ পালন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দিনটিকে পালন করে ‘সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে।

বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বরাবর আবেদন করে বিএনপি। তবে অনুমতির বিষয়ে ডিএমপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর