৭৫ এর ১৫ আগস্ট আমাকে ঝাঁকুনি দেয়: প্রধানমন্ত্রী
৭৫ এর ১৫ আগস্ট আমাকে ঝাঁকুনি দেয়: প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১০-৩০ ০৪:৩০:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৭৫ সালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমাকে ঝাঁকুনি দেয়। এরপর আওয়ামী লীগের কর্মীরাই আমাকে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের নতুন কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর প্রথম রুদ্ধদ্বার সভায় স্মৃতিকাতর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছে এসব স্মৃতিচারণ করেন। রাত সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রায় দেড় ঘণ্টাই স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।

তারা বলেন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই আমার সব। ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের আমি বিদেশে যায়। তখন পরিবারের সবাইকে দেশে রেখে যায়। ছয় বছর পর যখন দেশে আসি তখন পরিবারের কাউকে পায়নি। তবে লক্ষ-কোটি নেতাকর্মীকে আমি পেয়েছি। তারা আমাকে বরণ করে নেয়।’

সভাপতিমণ্ডলির কয়েকজন সদস্য জানান, ‘বৈঠকে শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের পর ছয় বছর প্রবাস জীবনের কষ্টের স্মৃতিগুলো তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছে বর্ণনা করেন। প্রধানমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মা আমাকে বলেছিলেন তুই দেশে আয়, তোর সঙ্গে আমার অনেক কথা রয়েছে। দেশে আসতে পারিনি। মায়ের সেইসব কথাও আর শোনা হয়নি।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল ও পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ করেন বলেও জানান বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন সদস্য।

তারা বলেন, ‘বেঁচে থাকা একমাত্র বোন শেখ রেহানার বিয়েতে উপস্থিত থাকতে না পারার বেদনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের অসংখ্য কর্মী-সমার্থকরা আমাকে স্বজন হারানোর ব্যাথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। তারাই আমার প্রাণ।’

বৈঠকে ভারতে থাকাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী কি রকম কষ্ট করেন সেটাও সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করেন। এ সময় তিনি ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দলের নেতাকর্মী যারা শক্তি সাহস যুগিয়েছে, বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে তাদেরও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত সবাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে দুঃসহ স্মৃতির কথা শুনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- সভাপতিমণ্ডলির সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, পিযুজ ভট্টাচার্য, রমেশ চন্দ্র সেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান এবং ওবায়দুল কাদের।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর