আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন চলছে
আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন চলছে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১০-২২ ০৬:৪৯:৫০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলছে। জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

শনিবার সকাল ১০টার একটু পরেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সম্মেলন উপলক্ষে কানায় কানায় পরিপূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদচারণে মুখরিত।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন নেতা-কর্মীরা। দলের নেতা-কর্মীরা দেশের বাইরে থেকেও সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন। এসেছেন বিদেশি অতিথিরাও।

সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের সব রাস্তায় সকাল আটটা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন হবে দ্বিতীয় দিন রোববার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। ওই অধিবেশনে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদ নির্বাচন করা হবে। এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’।

অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশের সাবেক কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত, খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিকেরাও আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

সম্মেলনে নেতাদের বসার জন্য স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন নৌকা আকৃতির বিরাট মঞ্চ। ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬৫ ফুট প্রস্থের এই মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল প্রদর্শনী। মঞ্চের দুই পাশে রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতাদের প্রতিকৃতি। বিভিন্ন প্রবেশপথ থেকে সম্মেলনস্থল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিভিন্ন অর্জনের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে।

নির্মাণকাজে যুক্ত কর্মীরা বলেন, মূল মঞ্চ হয়েছে পাঁচ স্তরের। একেবারে সামনের অংশটির উচ্চতা হচ্ছে আড়াই ফুট। যেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলছে। সাত ফুট উচ্চতার স্থানটিতে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বসেছেন। আর পেছনের বিভিন্ন উচ্চতার তিন সারিতে কেন্দ্রীয় নেতারাসহ ৫৮ জনের বসার স্থান করা হয়েছে।

মঞ্চের সামনে বিশাল প্যান্ডেল । এর ভেতরে ২০ হাজার চেয়ার রাখা হয়েছে। রয়েছে ১৬টি এলইডি টেলিভিশন। মূল মঞ্চ থেকে মৎস্য ভবন, শাহবাগ, দোয়েল চত্বর পর্যন্ত শতাধিক মাইক স্থাপন করা হয়েছে।

আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্মেলনস্থলে উপস্থাপন করা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র।

সম্মেলনের মঞ্চে নিরাপত্তা তল্লাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন এবং ঢাকা শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন আছেন। সম্মেলনস্থলে লাগানো হয়েছে প্রায় ১৪০টি সিসি ক্যামেরা।

এ ছাড়া উদ্যানের চারপাশের রাস্তা, নগরের সব কটি প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্থানেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

গত সম্মেলনের পর থেকে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া জাতীয় আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সব আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত দলীয় নেতা ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আব্দুল মান্নান খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিম। এরপর পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন সম্মেলনে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিরা। পরে দলীয় সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই পর্বের সমাপ্তি হয়।

সভাপতির বক্তব্যের পর বিগত সম্মেলন থেকে এ পর্যন্ত দলের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর করা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এই প্রতিবেদনকে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট বলা হয়ে থাকে।

সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপনের পর মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে আমন্ত্রিত অতিথিসহ সম্মেলন স্থলে উপস্থিতদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দলের নেতারা বক্তব্য দেন। জেলার নেতাদের বক্তব্যের শেষে সন্ধ্যায় বাংলাদেশের ইতিহাস, এতিহ্য ও আওয়ামী লীগের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে সাজানো হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিবেশনা।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শুধু কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে চলমান কমিটি বিলুপ্ত করা হবে। সম্মেলনের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন ৬ হাজার ৭৫০ জন কাউন্সিলরের ভোটে দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ড. মসিউর রহমান ও রাশেদ উল আলম। এরই মধ্যে কাউন্সিলরদের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেয়া হবে।

খাবারের পর বিকেলে আগামী তিন বছরের জন্য আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হওয়ার পর নির্বাচিত সভাপতি একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দেবেন। এর মাধ্যমেই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর