পিডিবির উচ্চ পর্যায়ের প্রকৌশলীসহ তিনজন র‌্যাবের নজরদারিতে
পিডিবির উচ্চ পর্যায়ের প্রকৌশলীসহ তিনজন র‌্যাবের নজরদারিতে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১০-২১ ১৭:২৫:৪০
প্রিন্টঅ-অ+


নিউ জেএমবির অর্থ নিয়ন্ত্রক আবদুর রহমানের ব্যবহার করা বিভিন্ন ডিভাইস থেকে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। এসব ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পাওয়া গেছে নিউ জেএমবিতে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগসূত্র। র‌্যাবের দায়িত্বশীল এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যেমন সাপ বেরিয়ে আসে, ঠিক এমন কিছু তথ্য মিলেছে।’ এছাড়া আবদুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ আক্তার রুমির কাছ থেকেও মিলছে নতুন নতুন তথ্য।

আবদুর রহমানের ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন ও এর বিভিন্ন অ্যাপসে পাওয়া তথ্য বলছে, তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সরকারি এক পদস্থ কর্মকর্তাও (প্রকৌশলী)। প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা, অনুসন্ধান ও তদন্তের পর ওই প্রকৌশলীসহ তিনজনকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদের একজন চিকিৎসক, একজন সরকারি কর্মচারী। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় জানাননি সংশ্লিষ্টরা। বরং জানিয়েছেন, যে কোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।

জানতে চাইলে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, নিউ জেএমবির মূল অর্থ নিয়ন্ত্রক আবদুর রহমানের ব্যবহার করা ডিভাইস ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জড়িত যাদের নাম আসছে, তাদের বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের মতাদর্শে বিশ্বাসী আবদুর রহমান সম্প্রতি আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানকালে লাফিয়ে আÍহত্যা করে। তার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যাদের যোগাযোগ ছিল তাদের নাম এখন গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে।

দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আবদুর রহমানের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের লোকদের জড়িত থাকার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় জানে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নীতির কারণে কারও রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় নজরদারিতে থাকা কর্মকর্তাসহ অন্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত হচ্ছে।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আবদুর রহমানের কাছে বেশিরভাগ সময় হুন্ডিতে অর্থ আসত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যাংকিং চ্যানেল। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বর্ণের চালান আসত তার কাছে। এসব চালান বিক্রি করেও সে অর্থ সংগ্রহ করত। পরে তা প্রয়োজনমাফিক নিউ জেএমবির হামলাকারী জঙ্গিদের হাতে তুলে দিত। এ কাজে তাকে মিলন ও সোহেল নামে দুই জঙ্গি সহায়তা করত। এ দু’জন আবদুর রহমানের বার্তা বাহক ছিল। তাদের ধরতেও অভিযান চালাচ্ছেন র‌্যাবের গোয়েন্দারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী রুমির কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য মিলেছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, ব্যাংকিং খাত ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে কীভাবে কার কাছে টাকা আসত এসব লিংক খুঁজে পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সারা দেশে নিউ জেএমবির টার্গেট কিলিং ও হামলায় আবদুর রহমানের অর্থায়নের নেপথ্যের ব্যক্তিদের সম্পর্কে মিলেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এসব তথ্যে নাম আসে পিডিবির এক প্রকৌশলীসহ উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের- যারা আবদুর রহমানকে পৃষ্ঠপোষকতাসহ বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করে আসছিলেন। এতদিন তারা ছিলেন পর্দার আড়ালেই।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর