ডিএসইউ গ্রুপের ১৬ অ্যাডমিনকে খুঁজছে পুলিশ যার মধ্যে ৮ জন তরুণী!
ডিএসইউ গ্রুপের ১৬ অ্যাডমিনকে খুঁজছে পুলিশ যার মধ্যে ৮ জন তরুণী!
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১০-১৬ ১৭:১২:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ডেসপারেটলি সিকিং আনসেনসর্ড (ডিএসইউ) নামের গ্রুপটিতে মোট ১৮ জন অ্যাডমিন ও একজন ক্রিয়েটর রয়েছে। তাদের মধ্যে আবার ৮জন তরুণী। মালয়েশিয়ায় বসে প্রবাসী বাংলাদেশি মো. রাহুল চৌধুলী এই গ্রুপটির ক্রিয়েটর তদারকি করছে। পর্নোগ্রাফি ছড়ানো, অশ্লীল আলাপচারিতাসহ এমন কোনও নোংরামি নেই, যা এই গ্রুপে প্রচারিত হতো না। অ্যাডমিনদের গ্রুপ চ্যাটের এমন নোংরামি দেখে অবাক হয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গ্রুপটির তিনজনকে গ্রেফতারের পর এই গ্রুপ সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

বুধবার বিকালে রাজধানীর কলাবাগান থানার পান্থপথ এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার (এসি) জাহাঙ্গীর হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম গ্রুপটির তিন অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন, ময়মনসিংহের আসিফ রানা, কুমিল্লার জুবায়ের আহমেদ ও শেরপুরের তৌহিদুল ইসলাম অর্ণব। তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তারা কেউ স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকে না। তবে মাঝেমাঝে তারা ঢাকায় আসে। গ্রুপের অ্যাডমিনরা মিলে কোনও রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে আড্ডা দেয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, গ্রুপটির ১৮ জন অ্যাডমিন রয়েছে। একজন ক্রিয়েটর, সে মালয়শিয়ায় থাকে। অ্যাডমিনদের মধ্যে আটজন তরুণীও রয়েছে। তারা হলো, আনিকা তাসনিম, তৌহিদা রিমি, নূমানা আফরোজ অর্পি, আফরিন মুন, মেহেজাবীন মেহেনাজ, শানজানা তরি, তাহসিফা মিথি ও সৈয়দা নুসরাত শাহরিয়ার। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পায়নি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত আসিফ রানা, জুবায়ের আহমেদ ও তৌহিদুল ইসলাম ছাড়াও আরও সাত তরুণ অ্যাডমিন রয়েছে। তারা হলো, মো. মারুফ হোসেন, কাজী হৃদয়, দেওয়ান সাজ্জাদ হোসেন মুন্না, আরাফাত হুসাইন, আশরাফ হিমেল, নাহিল শাহরিয়ার ও ফাহিম শাহরিয়ার। গ্রুপটিতে যারা মূলত অ্যাক্টিভ থাকে, তাদের অ্যাডমিন করা হতো। আবার ইনক্টিভদের অ্যাডমিন থেকে সরিয়ে দিতো রাউল চৌধুরী।’

এই ক্লোজ গ্রুপটিতে মূলত অশ্লীল ভিডিও, স্থীর চিত্র ও উত্তেজক কতাবার্তা প্রকাশ করা হতো। আইটি জ্ঞানসম্পন্ন তরুণ-তরুণীরা জেনেশুনেই এই গ্রুপটিতে এসব অশ্লীলতা প্রচার করতো বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।

গ্রুপটির ক্রিয়েটর রাউল চৌধুরীর নামে মামলা রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। সে গ্রেফতার এড়াতে মালয়শিয়া পালিয়ে যায়। সেখানে বসেই সে এই গ্রুপটি তদারকি করে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তিন তরুণের কাছ থেকে যেসব ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তারা এসব ডিভাইস থেকে কী ধরনের কন্টেন্ট প্রকাশ করছে, তা মূলত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হবে। আটকের পর তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সাইবার অপরাধীরা কেউ ধরাছোঁয়ার বাইরে না। তারা লিমিট অতিক্রম করলে সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে। সামাজিক মাধ্যমসহ সবকিছু আমাদের মনিটরিংয়ে আছে।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অ্যাডমিন প্যানেলের সবাই সবাইকে সামনা-সামনি চেনে না, জানেও না। তবে গ্রুপ চ্যাটিংয়ে তারা যৌনতা নিয়ে আলোচনা করে। একে অন্যকে পর্নোগ্রাফির ভিডিও, স্থিরচিত্র দিয়ে থাকে। গ্রুপটিতে সবাই উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী হওয়ায় যৌনতা নিয়ে আগ্রহের সুযোগ নিচ্ছে রাউল। তার অসৎউদ্দেশ্যের শিকার হচ্ছে দেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীরা।’

এসি জাহাঙ্গীর হাসান বলেন, ‘আমরা অবাক হয়েছি এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের এমন হীন কাজে দেখে। তারা নিজেদের মেধা দেশ, পরিবার ও সমাজের কাছে না খাটিয়ে কারও প্ররোচনায় পড়ে যাচ্ছে। পরিবারের উচিত এই তরুণ-তরুণীর দিকে খেয়াল রাখা এবং পারিবারিক সচেতনতা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধি করা।’

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, তিনজন গ্রেফতার হওয়ার পর গ্রুপটির অন্য অ্যাডমিনরা সবাই গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে তাদের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের গ্রেফতার সময়ের ব্যাপার। এই গ্রুপটির নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ।

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ টিমের এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে যেন মানুষ হয়রানির শিকার না হয়, কেউ কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ না করে, সেদিকে পুলিশের মনিটরিং রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধী অনেক। প্রতিদিন অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। আমরা সাধ্যমতো সবাইকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর