আমি চাই দলে নতুন নেতা নির্বাচন করুন: শেখ হাসিনা
আমি চাই দলে নতুন নেতা নির্বাচন করুন: শেখ হাসিনা
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১০-১৬ ০৫:৫০:১২
প্রিন্টঅ-অ+


দলের জাতীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, সম্মেলনে নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন। ১৯৮১ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছর দলের দায়িত্ব পালন করলাম, আর কত? আমি চাই দলে নতুন নেতা নির্বাচন করুন। বঙ্গবন্ধু যে চারা রোপন করেছিলেন, তাই আজ বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। আমি চাই, দলে নতুন চারা রোপণ হোক। এভাবেই দল এগিয়ে যাক।

বিএনপি ও এর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশি কোনো অতিথি এলেই তারা গিয়ে নালিশ করে আসেন,দেশে গণতন্ত্র নেই।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই উন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশিদের কাছে কান্নাকাটি করে কোনো লাভ হবে না। আমরা দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি, করে যাবো। যারা যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদদাতা, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, দুর্নীতি ও লুটপাট করেছে, এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে, আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে- তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। এদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যুগযুগ ধরে করেই যাবে।

শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে দলের অবদান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সেই সংগঠন, যারা জনগণকে কেবল দিতেই ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই কেবল মানুষ কিছু পায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকালে তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের বিষয়ে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বিদেশি অতিথি এলেই তারা গিয়ে বলে আসেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। এ কথা যিনি বলছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) গণতন্ত্র বানান করতে পারবেন কী-না এবং গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানেন কি-না- সেটিই সন্দেহ। আর এদেশের মানুষকে তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের শিক্ষা নিতে হবে না। বারবার লড়াই-সংগ্রাম করে দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অনেকে বলেন, দেশে না-কি গণতন্ত্র নেই। এটি হাস্যকর। আর এই কথা কাদের কাছ থেকে শুনতে হয়? অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, ভোটচুরি করে ক্ষমতায় গিয়েছিল, ক্ষমতায় টিকে থাকতেও ভোটচুরি করেছিল, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দিয়েছিল- তাদের মুখ থেকে আজ গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়! জাতির জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কী আছে, জানি না।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। নিজেই নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর হাতে গড়া সংগঠন বিএনপি। তারা যদি বলে দেশে গণতন্ত্র নেই, সেটি খুবই দুঃখজনক। তারা কোন গণতান্ত্রিক পথে তৈরি? কোন গণতান্ত্রিক পথে তারা ক্ষমতায় গেছে?

ক্ষমতায় গেলে দু’টি পদ্মা সেতু নির্মাণে খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যিনি পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করে কাজই শুরু করতে পারলেন না, তিনি না-কি দু’টি সেতু করে দেবেন! একটি সেতুর কাজই যিনি শুরু করতে পারেন না, তিনি কীভাবে দুটি সেতু করার কথা বলেন!

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন। এদেশের যা কিছু অর্জন, তার সবকিছুই এই সংগঠনের মাধ্যমেই হয়েছে। তবে এই সংগঠনের ওপর দিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপ্টা গেছে। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টাও হয়েছে। জাতির পিতার আদর্শে বিশ্বাসী দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরাই সব ঝড়-ঝাপ্টা মোকাবেলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের আদর্শে দলীয় নেতাকর্মীদের দেশ গড়ার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটিই একজন রাজনীতিকের জন্য সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের, দেশকে কতটুকু দিতে পারলাম। দেশ ও মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম। সবাইকে সেভাবেই কাজ করে যেতে হবে।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় কমিটির এই বৈঠক হয়। বৈঠকে ২২-২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ২০তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন হয়। জাতীয় কমিটির নেতারা সম্মেলন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর