দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক সম্মেলন শুরু আজ
দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক সম্মেলন শুরু আজ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১০-১৫ ০৪:৩৬:২১
প্রিন্টঅ-অ+


আজ শনিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে নবম দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক সম্মেলন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতার কৌশল ও ক্ষেত্র নিয়ে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে আলোচনা হবে। লা মেরিডিয়ান হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

বাংলাদেশের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ সম্মেলনের আয়োজন করছে। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশি-বিদেশি শতাধিক অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও গবেষকেরা অংশ নেবেন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে সিপিডি। মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে কীভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা কাজে লাগানো যায়, সেটাই এ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ২০৩০ সালের দক্ষিণ এশিয়া পুনর্ভাবনা। এবারের সম্মেলনে উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশন ছাড়াও মোট চারটি প্ল্যানারি সেশন থাকবে। এসব সেশনে ২০৩০ অ্যাজেন্ডা বা এসডিজি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা; দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির টেকসই রূপান্তর; এসডিজির চ্যালেঞ্জ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক আলোচনার জন্য আরও ছয়টি সমান্তরাল অধিবেশন থাকবে। সেখানে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য জ্বালানি, গণমাধ্যম, অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং আন্তর্দেশীয় যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অনেক সম্ভাবনাময় অঞ্চল, আবার অনেক চ্যালেঞ্জেরও। তিনি বলেন, নানা প্রেক্ষাপটে সার্ক পিছিয়ে গেছে। আবার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কারণে সার্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সম্মেলন সার্কের আওতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। আবার উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে সম্মেলনে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পরই দক্ষিণ এশিয়ার গড় মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশি। ২০১৬ সালের এ অঞ্চলে গড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। কিন্তু আন্তর্দেশীয় বাণিজ্য মাত্র ৫ শতাংশের মতো। নিজেদের বাণিজ্য বাড়িয়ে নেওয়ার বিশাল সুযোগ আছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো করছে। তিনি মনে করেন, সার্কের প্রয়োজনীয়তা আছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দূর করতে হলেও সার্ক দরকার।

এ প্রশ্নের জবাবে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সার্কের পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক জোট হতে পারে। এটি একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। আসিয়ান অঞ্চলেও এ ধরনের মেকং জোট আছে।

মূলত, দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক সম্মেলন একটি বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগ। তবে সম্মেলনে সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী-সাংসদেরা বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। এ সম্মেলনে সহ-আয়োজক হলো ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ, পাকিস্তানের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট, শ্রীলঙ্কার ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজ অব শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিকস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর