কর্ণফুলী টানেল আজ উদ্বোধন
কর্ণফুলী টানেল আজ উদ্বোধন
২০১৬-১০-১৪ ১৫:৫৯:১৫
প্রিন্টঅ-অ+


নদীর নিচ দিয়ে দেশের প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামে। সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ টানেল চট্টগ্রামকে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে। এশিয়ান হাইওয়ে যুক্ত হবে চীনের প্রস্তাবিত সিল্ক রোডের সঙ্গে। এক সড়কের মাধ্যমে নতুন একটি বলয় তৈরি করতেই সিল্ক রোড তৈরি করছে চীন। এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে খুলে দেবে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ারও। সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের টানেলের নির্মাণকাজ শুক্রবার উদ্বোধন করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা যায়, নেপাল, ভুটান ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়ক যুক্ত করতেই কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে টানেল তৈরি করা হচ্ছে। টানেলের পাশেই এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে আউটার রিং রোড নামের ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নতুন আরেকটি সড়ক। এ ছাড়া এশিয়ান হাইওয়েকে সামনে রেখে তিন হাজার কোটি টাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ৯৬৫ কোটি টাকায় কর্ণফুলীর কালুরঘাটে নির্মাণ করা হচ্ছে আরেকটি সড়ক কাম রেল সেতু। তিন হাজার কোটি টাকায় করা হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ৪৫৩ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভার। এসব প্রকল্প আগামী তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এরপর জাইকার অর্থায়নে মিরসরাই থেকে চট্টগ্রামের সাগর পাড়ে আরেকটি সড়ক তৈরির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আনোয়ারা-চন্দনাইশ হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সমুদ্রের তীরঘেঁষে আরেকটি সড়ক তৈরির প্রকল্পও চূড়ান্ত করছে সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র স্থাপন করবে চট্টগ্রাম।

এক সড়কে এক বলয় :ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান হয়ে ইউরোপের চার হাজার মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এ সিল্ক রোড। সিল্ক, মসলাসহ প্রধান বাণিজ্যিক পণ্যগুলোর বাজার সম্প্রসারণ করতে এ সড়ক তৈরি করতে যাচ্ছে চীন। এক সড়কের মাধ্যমে একটি নতুন বলয় তৈরি করতে চায় চীন। এ জন্য মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সমুদ্র উপকূলকে বেছে নিয়েছে তারা।

সিল্ক রোডে যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ে :সিল্ক রোডের সঙ্গে এশিয়ান হাইওয়েকে এক সুতোয় গাঁথবে কর্ণফুলীর টানেল। এ সুড়ঙ্গ পথ তৈরির কাজ শেষ হবে ২০২০ সালের মধ্যে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। টানেলটির অবস্থান হবে নদীর তলদেশের ১২ থেকে ৩৬ মিটার গভীরে। চার লেনের এ টানেল হবে দুই টিউব বিশিষ্ট। প্রথম পর্যায়ে শহর অংশের কাজ শেষ করা হবে। পরে টানেলে যাতায়াতের সুবিধার্থে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে নির্মিত হবে ৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়কও।

সম্ভাবনার এশিয়ান হাইওয়ে :ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ প্রসারে এশিয়ান হাইওয়ের মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আটটি মহাসড়কের ৬০০ কিলোমিটার সড়ক। সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক) এশিয়ান হাইওয়ে এবং বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরে নতুন করে আট মহাসড়ক যুক্ত হতে যাচ্ছে। গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। এর ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। এশিয়ান হাইওয়ের জন্য যশোর জেলার শার্শা, ঝিকরগাছা, নড়াইল জেলার সদর, লোহাগড়া, গোপালগঞ্জের সদর, কাশিয়ানী, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফটিকছড়ি, পটিয়া, চন্দনাইশ ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে বাস্তবায়ন এলাকা ধরে নেওয়া হয়েছে। নেপাল, ভুটান ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়ক যুক্ত হতে যাচ্ছে এই হাইওয়ের সঙ্গে। এশিয়ান হাইওয়ের মূল সংযোগটি যাবে চট্টগ্রাম দিয়ে। তবে তামাবিল দিয়েও একটি পথ যুক্ত হবে।

এশিয়ান হাইওয়ে ঘিরে যত কর্মযজ্ঞ :চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত টেনে নেওয়া হচ্ছে নতুন একটি রেললাইন। এতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় রেল মন্ত্রণালয়। যোগাযোগের সুবিধার্থে কর্ণফুলী নদীতে নির্মাণ করা হচ্ছে রেল কাম সড়ক সেতু। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করছে রেলওয়ে।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন :সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, টানেল নির্মাণের মাধ্যমে এশিয়ান হাইওয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে চট্টগ্রাম। এ টানেলকে ঘিরে মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সাগরপাড়ে তৈরি করা হবে বিকল্প আরেকটি সড়ক। আনোয়ারার সাংসদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, টানেল ও নদীতীর সুরক্ষায় ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, আনোয়ারা ও পটিয়ার সমুদ্র উপকূলে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ভারত, মিয়ানমার হয়ে এশিয়ান হাইওয়ের রুট যাবে চীনে। বাংলাদেশের সঙ্গে এ হাইওয়ের সংযোগ স্থাপন করে দেবে চট্টগ্রাম।
(সারোয়ার সুমন)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর