রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১০-১৪ ০১:৪৬:৫২
প্রিন্টঅ-অ+


রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে এতো কথা, সেখানে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কার্বন কমানো ও সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি করার জন্য সেখানে এ গাছ লাগানো হবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী নবনির্মিত একশটি ঘূর্ণিঝড় এবং ৫৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের একটাই পথ হচ্ছে বাংলাদেশকে সবুজ বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা। কারণ এটা ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগটা ঘুরিয়ে দেয় এবং জলোচ্ছ্বাসের পানির গতিবেগ কমিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্র ও নদী উপকূলে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপন করতে হবে। সবুজ বেষ্টনীই বাংলাদেশকে জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করতে পারে।’

এবারের আন্তর্জাতিক দুর্যোগপ্রশমন দিবসের প্রতিপাদ্য Tell to live। এর সাথে মিলিয়ে বাংলাদেশে এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে হলে, কৌশলসমূহ বলতে হবে’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থা এমন এক জায়গায় যেখানে প্রতিনিয়ত নানা ধরণের ঝুঁকির মোকাবিলা করে চলতে হবে। বন্যা, ক্ষরা আর জলোচ্ছাস নানা ধরণের ঝুঁকি আমরা প্রতিনিয়তই মোকাবিলা করি। এই ঝুঁকি থেকে মানুষকে বাঁচানো যায় না, এটা ঠিকানা। আমরা একটু সজাগ থাকলে আর সময়মতো পদক্ষেপ নিয়ে যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন মাল্টিপারপাস সাইক্লোন সেন্টার বানাচ্ছি। সেখানে স্কুল হবে, হাসপাতাল হবে বা অন্যান্য দফতর হবে। প্রত্যেকটা সাইক্লোন সেন্টারের সঙ্গে একটা স্টোরের ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে স্কুল বা অফিস চলবে, তাদের জরুরি কাগজ যেন সেখানে রাখা যায়। প্রত্যেক সাইক্লোন সেটারের সঙ্গে বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতা থাকতে হবে। সেখানে গবাদী পশু রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

বজ্রপাত থেকে রক্ষায় তালগাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইদানিং বজ্রপাত খুব বেশি হচ্ছে। আগে প্রত্যেক বাড়ির সাথে তাল গাছ থাকতো। ইদানিং তালগাছ দেখা যায় না। তালগাছ কেউ লাগাই না। তালগাছের একটা গুণ আছে। বর্জ্রপাত হলেই সেটা আগে তাল গাছের ওপর পড়ে। আমাদের দেশ থেকে যেন তাল গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আবার তাল গাছ লাগানো শুরু করা উচিত।’

প্রত্যেক দালানে আর্থিংয়ের ব্যবস্থা করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনও সময় দুর্যোগ আসতে পারে, আমাদের এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। এই দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ্ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু প্রমুখ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর