আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-১০-১৩ ১৬:৪৬:১০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। ‘টেল টু লিভ’ প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে সারাবিশ্বে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলায় এর ভাবার্থ করা হয়েছে ‘দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে হলে, কৌশলসমূহ বলতে হবে’।

ওসমানী মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

দিবস পালন উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের গৃহীত কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি সারাবিশ্বে এ দেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুর্যোগ ঝুঁকি তথা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ কর্তৃক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দুর্যোগকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে আগাম বার্তা ও সম্মিলিত উদ্যোগে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব।’ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, স্থানীয় জনগণসহ সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে সমন্বিতভাবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসসহ দুর্যোগ প্রশমনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম শুরু করেন। উপকূলীয় জনসাধারণের দুর্যোগ ঝুঁকি বিবেচনা করে তিনি ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই নতুন আঙ্গিকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর হাতে গড়া সিপিপি আজ সারাবিশ্বে সমাদৃত।’

তিনি বলেন, ‘বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে দুর্যোগের কারণ এবং বাঁচার উপায় বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সরকারি, বেসরকারি সংস্থাসহ সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দিবসটির সফলতা কামনা করেন।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানান, ‘দিবসটি পালন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দেশব্যাপী আলোচনা সভা, পোস্টার স্থাপন, লিফলেট বিতরণ, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টকশো, সড়কদ্বীপে সাজ-সজ্জা, র‌্যালি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মহড়া, স্মরনিকা প্রকাশ ইত্যাদি রয়েছে ।’

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও পূর্ব প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করতে চায়। বিশেষত জনসচেতনতার জন্য দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশলগুলো জনগণকে অবহিত করাই মূল লক্ষ্য।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার কৌশল হিসেবে জনসচেতনতার পাশাপাশি দেশব্যাপী ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মহড়া করা হচ্ছে। গত ৯ অক্টোবর সচিবালয়ে ও ১০ অক্টোবর পুরান ঢাকার সদরঘাটে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মহড়া করা হয়েছে।’

এ ধরনের মহড়া নিয়মিত বিভিন্ন কমিউনিটি, প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজে করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য ২ শতাধিক কোটি টাকার উদ্ধার যন্ত্রপাতি ক্রয় করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরকে সরবরাহ করা হচ্ছে।’

চৌধুরী বলেন, ‘ সাইক্লোন মোকাবিলার কৌশল হিসেবে সাইক্লোনে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও র‌্যাবকে ৬টি উদ্ধারকারী জাহাজ সরবরাহ করা হয়েছে। উপকূলীয় জেলাসমূহে ১২টি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১০০ সাইক্লোন সেল্টার ও ৪৯টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ওসমানী মিলনায়তন থেকে একযোগে উদ্বোধন করবেন বলেও তিনি জানান।

সূত্র: বাসস

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর