৮ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ
৮ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১০-১৩ ০৩:৫১:০২
প্রিন্টঅ-অ+


ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ৮ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্থাপন করা হবে ১৫০টি উপকেন্দ্র। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ২০২১ সালের মধ্যে নতুন এই লাইনের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১৩ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৭২৯ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ২৬৬ কোটি টাকা। বাকি ৯ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা চীন থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে চীনের কাছে ঋণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরে এই ঋণের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হতে পারে।

ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের আন্তঃমন্ত্রণালয় (পিইসি) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। আগামী রোববার সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় সুপারিশ করা হলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২১ সালের মধ্যে সারাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত্ চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে সরকার ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনের ওই লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুত্ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সঞ্চালনের লক্ষ্যে সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণ, সম্প্রসারণ, ক্ষমতাবর্ধন ও সংস্কারণই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্ষমতার ৮ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন, ৫ হাজার এমভিএ ক্ষমতার বিভিন্ন ভোল্টেজ লেভেলের ১৫০টি উপকেন্দ্র নির্মাণ ও বিদ্যমান সঞ্চালন লাইন এবং উপকেন্দ্রগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবনায়।

পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৪০০ কেভি নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে ১০০ কিলোমিটার। ২৩০ কেভি নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে ৩৩০ কিলোমিটার। ১৩২ কেভি নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে ৩৩৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। ১৩২ কেভি ক্ষমতার ২২৫ কিলোমিটার বিদ্যমান সঞ্চালন লাইন সংস্কার করা হবে। এছাড়াও ৪০০/১৩২/৩৩ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ একটি, ২৩০/১৩২/ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ১২টি, ১৩২/৩৩ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ২৮টি, ৪০০ কেভি বিদ্যমান সাবস্টেশন সম্প্রসারণ একটি, ২৩০ কেভি বিদ্যমান সাবস্টেশন সম্প্রসারণ তিনটি, ১৩২ কেভি বিদ্যমান সাবস্টেশন সম্প্রসারণ ১৪টি, ২৩০/১৩২ কেভি বিদ্যমান সাবস্টেশনের ক্ষমতাবর্ধন ২৮টি, ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যমান সাবস্টেশন সংস্কার পাঁচটি ও নতুন বিশেষায়িত প্রকৌশল স্থাপনা নির্মাণ সাতটি।

এদিকে এই প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, কোনো কোনো জায়গায় অনেক বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এমনকি বর্তমানে যেসব বিদ্যুতের প্রকল্প চলমান তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া যানবাহনের জন্য ২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জোগান রাখা হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ যানবাহন ক্রয়েরও যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছে কমিশন।
(মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর