নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ বিচারপতির নির্দেশ
নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ বিচারপতির নির্দেশ
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২৬ ২০:৫০:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


নিজেদের বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিডিআর বিদ্রোহ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি গ্রহণকারী হাইকোর্টের তিন বিচারপতি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তারা এ আদেশ দেন। আদেশের কপি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, আইন সচিব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের প্রতি এ আদেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল।

এর আগে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে পুলিশের কাছে এই বেঞ্চের নিরাপত্তা চেয়েও না পাওয়ার পর আদালত এ আদেশ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সূত্র জানায়। আদেশদাতা তিনজন হলেন- বিচারপতি শওকত হোসেন, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার।

১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি শুধু বিডিআর মামলার শুনানির জন্য তিন সদস্যের এ বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন। পরদিন ১৮ জানুয়ারি থেকে প্রায় বিরতিহীনভাবে এ বেঞ্চে বিডিআর হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মামলাটির শুনানি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তাই আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে ঢাকা মহানগর তৃতীয় দায়রা জজ ড. আক্তারুজ্জামান পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন- যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অন্যতম বড় মামলার রায়।

রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করে আসামিপক্ষ। এছাড়া ৬৯ জনকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। শুনানির ১২৪তম দিনে ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত ও রায়সহ বই) উপস্থাপন শেষ করে। পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে বিচারপতিদের নিরাপত্তা চেয়ে একাধিক চিঠি দেয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় সম্প্রতি আদালত চলাকালীন ওই বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি শওকত হোসেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে আমরা শুনানি করতে পারব না। পরে এক ধরনের বাধ্য হয়েই বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ দিলেন এই তিন বিচারপতি।

আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কেএম জাহিদ সারওয়ার কাজল বলেন, আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় মামলা হওয়ায় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিচারকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বাকি ১৩ জনের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর