"বাদ" দেওয়া নেতাদের দলে ফিরিয়ে নেবে বিএনপি
"বাদ" দেওয়া নেতাদের দলে ফিরিয়ে নেবে বিএনপি
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১০-১১ ১৭:৪৯:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


মাঠ জরিপসহ নানা হিসাব-নিকাশ কষে দলের সংস্কারপন্থি নেতাদের ব্যাপারে নমনীয় হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। ওই সব বাদ দেওয়া নেতাদের অধিকাংশকে আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা না হলেও বাস্তবত দলে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। তাদের দলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেবেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী সংসদ নির্বাচনে এমন কয়েকজন নেতাকে মনোনয়ন দিতে পারেন তিনি।

ইতিমধ্যে ওই সব নেতাকে সবুজসংকেত দেওয়া হয়েছে। দলের দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে পাঁচজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে দলের চেয়ারপারসনের মনোভাব জানিয়েছেন তারা। তাদের স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় তৎপর হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পদপদবি ও মনোনয়ন দেওয়ার আগ পর্যন্ত শুধু আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না তারা।


বিএনপির হাইকমান্ডের গোপন এ সিদ্ধান্তে নাখোশ দলের কট্টরপন্থি অংশের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তারা বলছেন, চেয়ারপারসন এখনও দলের আসল ও নকল লোক চিনতে পারছেন না। তবে দলের উদারপন্থি নেতারা বলছেন, বিএনপি নেত্রী দেশের সংকটময় অবস্থায় দল-মত নির্বিশেষে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে আগে দলের ভেতর ঐক্য প্রয়োজন। তাই খালেদা জিয়া দলের ভেতর বিভেদের রেখা মুছে ফেলতে চান। সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের আসনে জনপ্রিয় ওই সব নেতাকে প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিভক্তি দলকে দুর্বল করে। বিএনপিতে কোনো সংস্কারপন্থি নেই। সবাই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। সংস্কারপন্থি কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি-না জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মির্জা ফখরুল।


সূত্র জানায়, সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপিকে শক্তিশালী এবং দল ও জোটের বাইরে দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায় হাইকমান্ড। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মাঠ জরিপে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরি করছে দলটি। যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সংস্কারপন্থি বেশ কয়েকজন নেতা এগিয়ে রয়েছেন। ওই সব আসনে বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতা যেসব নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তারা হলেন- নরসিংদীর সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, সুনামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, বরিশালের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহিরউদ্দিন স্বপন, যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং বগুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা।


এ ছাড়া সংস্কারপন্থি নেতা নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, ময়মনসিংহের সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান দুলু, বগুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ, চাঁদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য এস এ সুলতান টিটু, মৌলভীবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, গাইবান্ধার শামীম লিঙ্কন প্রমুখের ব্যাপারেও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা হচ্ছে।


সূত্র জানায়, এর আগেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরামর্শে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও দলের সংস্কারপন্থি সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতাদের সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে একটি বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে সরকারের কোনো লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার পরামর্শে সংস্কারপন্থি কোনো নেতাই ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।


অবশ্য খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে সংস্কারপন্থি নেতাদের কোনো পদপদবি না দেওয়ায় হতাশ তারা। শুধু সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। তাকে ঢাকার উত্তরার আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।


পাঁচ নেতা যা বললেন :সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত নরসিংদীর সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বিএনপিতে ছিলাম এবং বিএনপিতেই আছি। দলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপি থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।


বরিশালের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলে কথা বলবেন। এ মহূর্তে এ বিষয়ে তেমন কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।


সুনামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বলেন, তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানে রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। বিএনপিতে আছেন এবং ভবিষ্যতে থাকবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।


বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি করতেই অপেক্ষায় আছেন। অন্য কিছু কখনও চিন্তা করেননি।


বগুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বলেন, তাদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ডের ইতিবাচক মনোভাবের কথা শুনেছেন। তারাও দলে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর