আজ শুরু হচ্ছে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব
আজ শুরু হচ্ছে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২৬ ২০:৪১:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ঘোরমাখা সুরে হারিয়ে যাওয়ার সময় এলো আবার। উপমহাদেশের বিখ্যাত সব শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীদের কণ্ঠ ও যন্ত্র সঙ্গীতে রাগ-রাগিনীর খেলায় রাত পেরিয়ে হবে ভোর। সরোদ, সেতার, সুরবাহার, বীণা, সারেঙ্গী, বাঁশি, বেহালা, সন্তুর, তবলা, তানপুরা, এস্রাজ, পাখোয়াজের সুরে শিল্পীর কণ্ঠ মাধুর্যে ধ্র“পদ, ধামার, খেয়াল, টপ্পা, দাদরা, ঠুমরি এমনি সব রাগাশ্রয়ী সঙ্গীতে পরিশুদ্ধ হবে প্রাণ-মন। সুরে সুরে আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে যাবে শান্তির বার্তা।

আজ থেকে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে চতুর্থবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব। অন্যান্যবারের মতো এবারও পাঁচদিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের উপমহাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত কালের বিবর্তনের ধারায় রূপ নিয়েছে বৈশ্বিক আকারে। তাইতো উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের কদর রয়েছে পাশ্চাত্যেও। ষাটের দশকের ‘বিটলস’- যারা নিজেদেরকে যিশু খ্রিস্টের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় বলে দাবি করত, তারাও এই উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে মোহিত হয়েছে। তাদেরকে সেই সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশংকর। আবার জ্যাজ মাস্টারখ্যাত জন ম্যাকলাফলিন উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে ফিউশন করেছেন তার শক্তি ব্যান্ডে। পাশ্চাত্যের সঙ্গীতপ্রেমীদের ভিন্ন এক স্বাদ দিতে প্রয়াত নুসরাত ফতেহ আলী খানের সঙ্গে জোট বেঁধে বিখ্যাত পার্ল জ্যাম ব্যান্ড সৃষ্টি করেছিল ‘দ্য লং রোড’ এর মতো গান। ডেফ লেপার্ড তাদের স্ল্যাঙ্গ অ্যালবামের ‘টার্ন টু ডাস্ট’ গানে সারেঙ্গি বাজিয়েছিলেন রাম নারাভানকে দিয়ে। সেই গানে ঢোল বাজিয়েছিলেন অ্যাভি সিং। অ্যারোস্মিথের নাইন লাইভস অ্যালবামে ‘টেস্ট অব ইন্ডিয়া’ গানে সারেঙ্গি বাজিয়েছিলেন রমেশ মিশরা।

পাশ্চাত্য সঙ্গীতে উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগের এমনি শত শত উদাহরণ দেয়া যাবে। কিন্তু আমাদের সেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত- ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর জন্মভূমি এই বাংলাদেশে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা কেমন যেন পিছিয়ে যাচ্ছিল। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উৎসব বাংলাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে এক নবজাগরণের সৃষ্টি করেছে।

সঙ্গীতপ্রেমীরা বিশেষ করে তরুণ সমাজ সারা বছর মুখিয়ে থাকে এই আয়োজনটি উপভোগ করার জন্য। এবারের আয়োজন নিয়েও তাই সবার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীকে। কারণ, গেল বছর এ উৎসব মঞ্চেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আজ চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের আসর শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আরএফ হোসেন এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

আজ উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজনে থাকছে পল্লবী ডান্স সেন্টারের ভরতনাট্যম, বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীদের তবলা কির্তন, জয়াপ্রদা রামমূর্তির কর্ণাটকি বাঁশি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধ্রুপদ পরিবেশনা, রাহুল শর্মার সন্তুর, কৌশিকী চক্রবর্তীর খেয়াল, পণ্ডিত কুশল দাসের সেতার এবং বিদুষী বম্বে জয়শ্রীর কর্ণাটকি সঙ্গীত।

শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। শুরুতেই ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের অভিজিৎ কুণ্ডু। উৎসবে নতুন সংযোজন সরস্বতী বীণা পরিবেশন করবেন জয়ন্তী কুমারেশ। খেয়াল পরিবেশন করবেন সুস্মিতা দেবনাথ। খেয়ালের পর ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর। একক তবলা বাদন পরিবেশন করবেন পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকর। এবারেই প্রথমবারের মতো উৎসবে এসেছেন খ্যাতিমান কর্ণাটকি কণ্ঠ শিল্পী পদ্মবিভূষণ বালমুরালী কৃষ্ণ। তিনি এবারের প্রবীণতম শিল্পী। তার সঙ্গে বাঁশিতে যুগলবন্দিতে অংশ নেবেন পণ্ডিত রণু মজুমদার। এস্রাজ বাজিয়ে শোনাবেন শুভায়ু সেন মজুমদার। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উৎসবে টানা চতুর্থবারের মতো এসেছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। তার খেয়াল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন।

রোববার উৎসবের তৃতীয় দিনের অধিবেশন শুরু যথারীতি সন্ধ্যা ৭টায়। অনুষ্ঠানমালার সূচনাতেই পরিবেশিত হবে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব ও তার দলের অংশগ্রহণে মণিপুরী নাচ। এদিন সন্ধ্যায় থাকছে ধ্রুপদ পরিবেশনা। পরিবেশন করবেন ওস্তাদ ওয়াসিফ ডাগর। সরোদ বাজিয়ে শোনাবেন ইউসুফ খান। ভারতের ‘সিংগিং ভায়োলিনখ্যাত এন রাজমের নেতৃত্বে কর্ণাটকি ধারার তিন প্রজন্মের তিন শিল্পী সুর তুলবেন বেহালায়। খেয়াল পরিবেশন করবেন বিদুষী শ্রুতি সাদোলিকর। তৃতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ গুরু কড়াইকুডি মানি। তিনি পরিবেশন করবেন মৃদঙ্গ। এদিন সর্বশেষে মঞ্চে আসবেন বিদুষী শুভা মুডগাল। তিনি পরিবেশন করবেন খেয়াল।

চতুর্থ দিন সোমবার শুরুতেই উৎসব মঞ্চে আসবেন বিশিষ্ট দম্পতি গুরু রাজা ও রাধা রেড্ডি। পরিবেশন করবেন কুচিপুডি নৃত্য। এরপর কর্ণাটকি বেহালা পরিবেশন করবেন গণেশ ও কুমারেশ রাজাগোপালন। সন্তুর পরিবেশন করবেন পণ্ডিত শিব কুমার শর্মা। সরোদ পরিবেশন করবেন পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার। খেয়াল পরিবেশন করবেন পণ্ডিত উলহাস কশলকর। এদিনের অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি হবে ওস্তাদ জাকির হোসেনের একক তবলা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।

মঙ্গলবার পঞ্চম ও সমাপনী দিনের অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায় অনিমেষ বিজয় চৌধুরীর পরিচালনায় সিলেটের আটজন শিল্পীর অংশগ্রহণে ধামার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর ভরতনাট্যম পরিবেশন করবেন বিদুষী আলারমেল ভালি। ইরশাদ খান পরিবেশন করবেন সুরবাহার। খেয়াল পরিবেশন করবেন সামিহান কশলকর। বিলায়েৎ খাঁর ছেলে ওস্তাদ সুজাত খাঁন পরিবেশন করবেন সেতার। খেয়াল পরিবেশন করবেন উৎসবের আরেক অন্যতম আকর্ষণ ওস্তাদ রশিদ খান। এবারকার উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশি। তার বাঁশির সুরে শেষ হবে এবারকার উৎসব।

উৎসবে যারা সঙ্গীত উপভোগ করতে আসবেন তারা কোনো ধরনের ব্যাগ সঙ্গে আনতে পারবেন না।
(হক ফারুক আহমেদ)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিনোদন এর অারো খবর